পথকুকুর সংক্রান্ত রায়ের সমালোচনা, মানেকা গান্ধীকে সুপ্রিম-ভর্ৎসনা
বর্তমান | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
নয়াদিল্লি: শিশু হোক বা বয়স্ক, কুকুরে কামড়ানোর ফলে জখম হোক বা মৃত্যু— প্রতিটি ঘটনাতেই রাজ্য সরকারগুলিকে ‘বিশাল ক্ষতিপূরণ’ দিতে হবে। পথকুকুরের আক্রমণ সংক্রান্ত মামলায় এমনই নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আদালত এও স্পষ্ট করে, পথকুকুরদের যাঁরা খাওয়াচ্ছেন ‘দায়-দায়িত্ব’ এড়াতে পারবেন না তাঁরাও। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশ হয়ত পছন্দ হয়নি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানেকা গান্ধীর। সম্প্রতি এক পডকাস্ট অনুষ্ঠানে আদালতের এই রায় নিয়ে সমালোচনা করতে শোনা যায় তাঁকে। বিষয়টা প্রকাশ্যে আসতেই সুপ্রিম কোর্টের রোষের মুখে পড়লেন তিনি।বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা এবং এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ স্পষ্ট ও কড়া ভাষায় জানায়, ‘মানেকা গান্ধীর বক্তব্য, শব্দচয়ন এবং আচরণ আদালতের মর্যাদাকে আঘাত করেছে।’ বিচারপতিরা জানান, মানেকার বিরুদ্ধে যে এখনও অবমাননার নোটিস জারি হয়নি, তা শীর্ষ আদালতের ‘মহানুভবতা’। বিচারপতিদের বেঞ্চ উল্লেখ করে, পডকাস্ট অনুষ্ঠানে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ‘বডি ল্যাংগুয়েজও’ যথাযথ ছিল না। মানেকা গান্ধীর আইনজীবী রাজু রামচন্দ্রনের উদ্দেশে বেঞ্চ প্রশ্ন করে, ‘আপনি দেখেছেন আপনার ক্লায়েন্ট প্রকাশ্যে কী ভাষায় কথা বলেছেন? আদালত সম্পর্কে এভাবে মন্তব্য করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তবে এই প্রসঙ্গ কার্যত এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন মানেকার আইনজীবী। বরং তিনি যে একসময় কুখ্যাত জঙ্গি আজমল কাসবের আইনজীবী ছিলেন, তা উল্লেখ করেন। এমন মন্তব্যে বিরক্ত হয়ে বিচারপতিরাও পালটা বলেন, ‘আজমল কাসব আদালত অবমাননা করেনি।’ আদালত এরপর মানেকা গান্ধীর অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিচারপতিরা জানতে চান, তিনি যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন, তখন পথ কুকুর সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন? এরপর মানেকা গান্ধীর আইনজীবী জানান, ‘তাঁর মক্কেলের উদ্দেশ্য আদালতকে অপমান করা ছিল না। তাঁর মন্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।’ তাতে বেঞ্চ পালটা মন্তব্য করে, ‘প্রকাশ্যে কথা বলার সময় প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহার করতে হবে’। বিচারপতিরা স্পষ্ট করে দেন, আদালতের নির্দেশ নিয়ে অসন্তোষ থাকলে তার জন্য আইনি পথ রয়েছে, কিন্তু প্রকাশ্যে এভাবে মন্তব্য করা কোনও সমাধান নয়।