রবীন রায় , আলিপুরদুয়ার:উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই এবার আসন্ন বিধানসভা ভোটে আলিপুরদুয়ার পুরএলাকার দখল নিতে চাইছে শাসক দল তৃণমূল। ২০২১ সালের বিধানসভা কিংবা ২০২৪ সালের লোকসভা ভোট, পুরএলাকায় পিছিয়ে গিয়েছিল তৃণমূল। তাই উন্নয়ন দিয়েই এবার দখল নিতে ঝাঁপিয়েছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই উন্নয়নের পাঁচালি নিয়ে পুর এলাকার ২০টি ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি প্রচার শুরু করেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। প্রচার চলছে রাতের দিকেও।একুশের বিধানসভা ভোটে আলিপুরদুয়ার পুরসভার ২০টি ওয়ার্ডে জোড়াফুল শিবির আট হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়েছিল গেরুয়া শিবির থেকে। চব্বিশের লোকসভা ভোটে বিজেপির লিড আরও বেড়ে গিয়ে সাড়ে ১২ হাজার গিয়ে দাঁড়ায়। পুরএলাকার ৬০টি বুথের মধ্যে চব্বিশের লোকসভা ভোটে তৃণমূল মাত্র দু’টি বুথে লিড পেয়েছিল। ফলে পুর এলাকায় আসন্ন ভোটে এই হারানো ভোট ব্যাংক পুনরুদ্ধার ও লিড নিতে উন্নয়নকেই পাখির চোখ করে এগচ্ছে তৃণমূল। আর তার জন্য গত এক বছরে শহর এলাকায় উন্নয়নে কোনও খামতি রাখেনি তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড।পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক বছরে রাস্তাঘাট, নিকাশিনালা, কালভার্ট, গার্ডওয়াল তৈরি ও ঝিল সংস্কার সহ নানা উন্নয়নের কাজে ৭০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। শহরে দু’টি পার্ক তৈরি করা হয়েছে। আরও একটি পার্ক তৈরি করা হচ্ছে। ২৫টি হাইমাস্ট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে কালজানি নদীর উপর চার কোটি টাকা ব্যয়ে জয়েশ সেতু তৈরির জন্য টেন্ডার করে ওয়ার্ক অর্ডারও দেওয়া হয়েছে। ওই ওয়ার্ডে একটি শ্মশানঘাট তৈরির ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। দু’টি মা ক্যান্টিন চালু করা হয়েছে। গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য পাঁচটি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।পুর চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ কর বলেন, ১০৮ কোটি টাকায় বাড়ি বাড়ি পানীয় জল প্রকল্পের কাজও চলছে। শহরের মানুষের কাছে দ্রুত এই পানীয় জল পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ৫০ লক্ষ টাকায় কালজানির বিসর্জন ঘাট তৈরির জন্য ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শহর এলাকায় উন্নয়নের কোনও খামতি নেই। উন্নয়নই আমাদের প্রধান হাতিয়ার। উন্নয়নের কাজ দিয়েই এবার শহর এলাকার দখল নেব আমরা।এবার আলিপুরদুয়ার বিধানসভায় তৃণমূলের প্রেস্টিজ ফাইট পুরএলাকায় হারানো এই ভোট ব্যাংকই বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উন্নয়ন দিয়ে সেই হারানো ভোট ব্যাংক পুনরুদ্ধার করে এবার শহর এলাকার দখল নিতে মরিয়া তৃণমূল। দলের টাউন ব্লক সভাপতি দীপ্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, এবার শহর এলাকার দখল নিতে আমাদের ভরসা এই উন্নয়নই।