• সাগরদিঘির চারপাশে সাফাই অভিযান কোচবিহার পুরসভার, সচেতনতার বার্তা
    বর্তমান | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: মঙ্গলবার সকাল থেকে সাগরদিঘির চারপাশে সাফাই অভিযান করল কোচবিহার পুরসভা। প্রচুর পরিমাণ জঞ্জাল সংগ্রহ করে অপসারণ হয়। সন্ধ্যায় খাবারের দোকানে দোকানে অভিযান চালিয়ে সাগরদিঘির চারপাশে জঞ্জাল না ফেলার বার্তা দেওয়া হয়। যেসমস্ত দোকান ওখানে বসে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, এরপর থেকে এখানে জঞ্জাল ফেললে জরিমানা করা হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের প্রতিও বার্তা দেওয়া হয় যাতে তাঁরা ওই এলাকায় প্রতি সন্ধ্যায় বসা খাবারের দোকানে খাবার খেয়ে প্লেট, গ্লাস ইত্যাদি নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলেন। এদিনের অভিযানে কোচবিহার পুরসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন আমিনা আহমেদ সহ অন্যান্য কাউন্সিলাররা উপস্থিত ছিলেন।আমিনা আহমেদ বলেন, কোচবিহারকে হেরিটেজ শহর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সাগরদিঘি অন্যতম পর্যটনস্থল। তার চারপাশে কোনওভাবেই জঞ্জাল ফেলা যাবে না। অথচ আমরা দেখছি যে সব দোকান সেখানে বসে তার আশপাশে জঞ্জাল জমে থাকছে। দিঘিতেও প্লাস্টিকের কাপ, বোতল ফেলা হচ্ছে। এটা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না। সেই কারণেই এদিন সাগরদিঘির পাড় পরিষ্কার করা হয়েছে। সন্ধ্যায় যেসব দোকান বসে তাদেরও সতর্ক করা হয়েছে। এরপর থেকে জঞ্জাল জমিয়ে রাখলে জরিমানা করা হবে। সাধারণ মানুষের কাছেও আবেদন করা হচ্ছে, সাগরদিঘির পাড়ে আপনারা কোনও কিছু ফেলবেন না। সাগরদিঘি আমাদের গর্ব। তাকে রক্ষা করাও আমাদের দায়িত্ব। বহু মানুষ সাগরদিঘির টানে কোচবিহারে আসেন। তাঁরা এসে যদি এই জায়গায় ময়লা জমে থাকতে দেখেন তা আমাদেরই লজ্জা। কোচবিহার শহরকে হেরিটেজ শহর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। তার সঙ্গে সাজুয্য বজায় রেখে সাগরদিঘির চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন রাখার দায়িত্বও আমাদের সকলের।কোচবিহার শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সাগরদিঘির চারপাশের সৌন্দর্যায়নের কাজ করেছে পুর ও নগরোয়ন্ন দপ্তরের অধীন মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টরেট। প্রায় ছ’কোটি টাকা ব্যয়ে চারপাশে রেলিং দেওয়া, ঘাট বাঁধানো, ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। এখনও স্টেজ ঘাট নির্মাণের কাজ চলছে। প্রতিদিন সকালে বহু মানুষ দিঘির চারপাশে প্রাতঃভ্রমণ করেন। বিকেলে নানা ধরনের খাবারের দোকান বসে। সেই সব দোকানে বিকেলের পর থেকে রীতিমতো ক্রেতাদের ভিড় জমে যায়। সেই সময় থেকেই সাগরদিঘির পাড়ে চায়ের কাপ, খাবারের প্লেট সহ নানা জঞ্জাল জমতে শুরু করে। অনেক দোকানে ডাস্টবিন থাকলেও একাংশ ক্রেতা খাবার খাওয়ার পর সেসব আশপাশে ফেলে দেন। সেসব চারপাশে জড়িয়ে পড়ে। এমনকী দিঘির জলেও পড়ে। • নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)