গড়পঞ্চকোট পর্যটনকেন্দ্রের জমিতে বেড়া তুলে অড়হরের চাষ! বিপাকে পর্যটকরা
বর্তমান | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: নিতুড়িয়া ব্লকের গড় পঞ্চকোট অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। এখানকার পঞ্চকোট রাজবংশের রাজধানীর ধ্বংসাবশেষের নিদর্শন ও পঞ্চরত্ন মন্দির দেখতে প্রতি বছর প্রচুর পর্যটক আসেন। কয়েক কোটি টাকা দিয়ে পর্যটন কেন্দ্রটি সাজানো হয়েছে। কিন্তু বছরের শুরুতেই কয়েকজন গ্রামবাসী পেশায় চাষি পঞ্চরত্ন মন্দিরের সামনের জমিতে বাঁশের বেড়া দিয়ে অড়হর চাষ করছেন। ফলে পঞ্চরত্নের মন্দির ঢাকা পড়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, পর্যটকদের জন্য পঞ্চায়েত সমিতি থেকে গড়ে তোলা কমিউনিটি টয়লেটও ঢাকা পড়েছে। এছাড়া যে জমির উপর স্থানীয় চাষিরা অড়হর চাষ করছেন সেখানে পানীয় জলের পাম্পচালিত বোরিং করা হয়েছিল। অড়হর চাষের জন্য জলের পাম্পটিও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে পর্যটন কেন্দ্রের এই বেহাল দশার জন্য পর্যটকের আনাগোনা কমেছে ওই এলাকায়। রঘুনাথপুরের মহকুমা শাসক বিবেক পঙ্কজ বলেন, সমস্যা সমাধানের জন্য সব রকম চেষ্টা হচ্ছে। গড় পঞ্চকোট পর্যটন এলাকা পরিদর্শনে করেছি।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গড় পঞ্চকোট পর্যটন কেন্দ্রের দেখাশোনার দায়িত্বে নিতুড়িয়া পঞ্চায়েত সমিতি রয়েছে। সমিতির তরফে এলাকার পঞ্চগ্রামীণের জনসাধারণকে নিয়ে গঠিত ধারা কল্যাণ সমিতিকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় যে সব পর্যটক রয়েছেন তাঁদের কাছে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ফি নেওয়া হয়। সেই টাকা পঞ্চায়েত সমিতিতে জমা পড়ে। সেই টাকার কিছুটা আবার ধারা কল্যাণ সমিতিকে দেওয়া হয়। তাঁরা পর্যটন এলাকার পরিচ্ছন্নতা সহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য সেই টাকা কাজে লাগায়। কিন্তু পর্যটন কেন্দ্রের পঞ্চরত্ন মন্দিরের সামনের জমিতে অড়হর চাষ করা হচ্ছে কেন? অড়হর চাষ করা জমির মালিক শ্যামল কৈবর্ত, হরিপদ বাউড়িরা বলেন, ওই পর্যটন কেন্দ্রের সামনে ৮৪৬ নম্বর দাগে ১৮ জনকে পাট্টা দেওয়া হয়েছে। মন্দিরের সামনের অংশ গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে গোটা জমিটি খারিজ করার চেষ্টা করা হয়। তাই বাঁশের বেড়া দিয়ে জমিতে অড়হর চাষ করা হয়েছে।শীতের মরশুমে আগত পর্যটকদের অভিযোগ, একটি পর্যটন কেন্দ্রের মতো জায়গায় কীভাবে কেউ চাষ করতে পারে। ওই জমির পাট্টাই বা দেওয়া হল কীভাবে। স্থানীয় প্রশাসনের অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করার প্রয়োজন রয়েছে। ওই এলাকায় ২০টির বেশি দোকান রয়েছে। পর্যটকদের উপরই দোকান মালিকরা নির্ভরশীল। তাঁরা বলেন, চাষের ফলে পর্যটন কেন্দ্রের ঐতিহ্য নষ্ট হচ্ছে। অন্য বছরের তুলনায় এবছর পর্যটকের সংখ্যাও কম। ওই সমস্যার সমাধান না হলে আমাদেরও পথে বসতে হবে।ধারা কল্যাণ সমিতির সম্পাদক দিলীপকুমার দে বলেন, সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশাসনের সর্বস্তরে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধান হয়নি। এদিকে, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শান্তিভূষণ প্রসাদ যাদব বলেন, সমস্যার সমাধানের জন্য আমাদের তরফ থেকে চেষ্টা করা হয়েছিল। সম্ভব হয়নি। মহকুমা ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।