• নিউটাউনে ফের ডিজিটাল অ্যারেস্ট, দফায় দফায় উধাও সাড়ে ৩ কোটি
    বর্তমান | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: গরম চায়ে চুমুক দিচ্ছেন মিশ্রাজি। হঠাৎ পুলিশ ইনসপেক্টর মনির ফোন! মিশ্রাজি ফোন ধরতেই ইনসপেক্টরের চমকানি—‘তুহে জিতনে ফোন নম্বর ইউজ কিয়াহে না, উসকে বাইশ কমপ্লেন মিলিহে মেরেকো’! তারপরই ভিডিও কল। মোটা টাকা  দাবি। কিন্তু ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নিয়ে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল মিশ্রাজি। তাই ফ্রডস্টার ‘পুলিশ’-এর ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। হাফপ্যান্ট পরে টেবিল উঠে কান্নাকাটি! মিশ্রাজি অবশ্য সকলের পরিচিত। তিনি বিখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকর!‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নিয়ে আম জনতাকে সতর্ক করতে সম্প্রতি নানা পাটেকরকে দিয়ে এমনই সচেতনতামূলক স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও প্রকাশ করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। কিন্তু  এসব বিজ্ঞাপনেও যে একাংশের চোখ খুলছে না, ফের তার জলজ্যান্ত উদাহরণ দেখা গেল নিউটাউনে। প্রতারকরা এক ব্যক্তিকে ফোন করে বলে, ‘আপনার আধার কার্ড দিয়ে তোলা সিমকার্ডের বিরুদ্ধে ২৪টি অভিযোগ হয়েছে।’ ভুয়ো পুলিশের ভয়ে নিউটাউনের ওই ব্যক্তি প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা দিয়ে ফেলেছেন প্রতারকদের।প্রতারিত নিউটাউনের বাসিন্দা সোমবার বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নিয়ে বারবার সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। বাস্তবে এই ধরনের কোনও গ্রেপ্তারি নেই। তা সত্ত্বেও প্রায় প্রতিদিন কোনও না কোনো ব্যক্তি প্রতারকদের পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছেন। দিন দু’য়েক আগেই নিউটাউনের অন্য এক বাসিন্দা এই ফাঁদে পড়ে ৪৯ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন। তিনি স্টিল অথরিটি অব ইন্ডিয়া লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ছিলেন। তাঁকে অবশ্য অন্য একাধিক অভিযোগের ভয় দেখানো হয়েছিল।জানা গিয়েছে, প্রতারিত ব্যক্তি নিউটাউনের আইবি ব্লকে থাকেন। প্রথমে তাঁর কাছে একটি ফোন আসে। প্রতারকরা নিজেদের মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার বলে পরিচয় দেয়। তারপরই তাঁকে বলা হয়, ‘আপনার নামে তোলা একটি সিমকার্ডের বিরুদ্ধে ২৪টি এফআইআর হয়েছে। বিজ্ঞাপন এবং হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের হয়েছে মুম্বইয়ে। প্রতিটি মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে কলটি অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা হচ্ছে।’ এরপর প্রতারকরা নিজেদের সিবিআই অফিসার পরিচয় দিয়ে ভয় দেখাতে শুরু করে। তারপর তাঁকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করা হয়। এমনরি, তাঁকে দেখানো হয় ভুয়ো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। সেই সঙ্গে তাঁর অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে শুনিয়ে দেয় তারা। বিভিন্ন অজুহাতে টাকা চাওয়া শুরু হয়। এভাবে কয়েক দফায় তাঁর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি (৩ কোটি ২৬ লক্ষ) টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। এর মধ্যে জামিন পাওয়ার জন্য ভুয়ো আদালতের নির্দেশ দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে! প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই ব্যক্তি।
  • Link to this news (বর্তমান)