এসআইআর: বছর ৫০ আগে বাড়িতেই জন্ম, শংসাপত্র পেতে আবেদনের হিড়িক
বর্তমান | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘বাড়িতে জন্মেছি। কোনো নথি নেই। জন্ম শংসাপত্র চাই।’ চলতি এসআইআর পর্বে এমন দাবি শুনতে শুনতে নাজেহাল পরিস্থিতি কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের। প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরসভাও জানিয়ে দিচ্ছে, কোনো নথি না থাকলে বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করা সম্ভব নয়। সার্টিফিকেট পেতে গেলে কিছু নিয়ম মানতেই হবে। তার জন্য কিছু কাগজপত্র জমা করতেই হবে। অন্যথায় জন্ম শংসাপত্র দেওয়া যাবে না।গত দেড়-দু’মাসে এসআইআরের জন্য ‘উটকো’ ঝামেলা বেড়েছে পুর- স্বাস্থ্যকর্তাদের। পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রের খবর, এই সময়কালে ‘বাড়িতে জন্ম’ হয়েছে দাবি করে শংসাপত্র সংগ্রহে এসেছেন অন্তত ৫০ জন। সম্প্রতি বড়বাজার অঞ্চলের এক হিন্দিভাষী মহিলা পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগের কাছে আবেদনে জানিয়েছেন, তিনি বাড়িতে জন্মেছেন। ১৯৮২ সালের এপ্রিল মাসে তাঁর জন্ম। মেইল মারফত পাঠানো সেই আবেদনে তিনি জন্মতারিখও উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি, তিনি দাবি করেছেন, তাঁর কাছে এর প্রামাণ্য কোনও কাগজপত্র নেই। এমন আবেদন পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই ‘না’ বলে দিয়েছে স্বাস্থ্যবিভাগ। তাদের যুক্তি, ১৯৮২ সালে কেউ যদি বাড়িতে জন্মায়, সেক্ষেত্রেও স্থানীয় ডাক্তারবাবুর কোনও সার্টিফিকেট নিশ্চয়ই রয়েছে। তা না হলে সেই মহিলা কীভাবে পরবর্তীকালে পড়াশোনা করেছেন, কীসের ভিত্তিতেই বা তৈরি হয়েছে তাঁর ভোটার অথবা আধার কার্ড! পুরসভার এক কর্তা বলেন, ‘আগে শহরাঞ্চলে কম হলেও গ্রামাঞ্চলের দিকে বাড়িতে প্রসবের প্রবণতা বেশি ছিল। গ্রামীণ চিকিৎসক কিংবা ধাইমা’রা সেই কাজ করতেন। নিয়ম অনুযায়ী, কারও বাড়িতে জন্ম হলেও স্থানীয় কোনও চিকিৎসকের দেওয়া সার্টিফিকেট প্রয়োজন। তার ভিত্তিতে ফার্স্ট ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেটের অর্ডার এবং হলফনামা দিতে হবে। সেই সঙ্গে ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড জমা করতে হবে। এত কিছু মানলে তবেই পুরসভা জন্ম শংসাপত্র দিতে পারবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বহু আবেদন এমন আসছে, যেখানে বলা হচ্ছে, কোনও নথিপত্রই নেই। তাঁদের কেউ ৪০ বছর, কেউ আবার ৪৬ বছর, কেউ বা ৫৫ বছর আগে জন্মেছেন। কিছুই না থাকলে জন্ম শংসাপত্র দেওয়া সম্ভব নয়। সেটাই আমরা জানিয়ে দিচ্ছি। কারণ, পরবর্তীকালে এই শংসাপত্র নিয়ে কোনও আইনি জটিলতা তৈরি হলে পুরসভার ঘাড়ে দায় এসে পড়বে। তাই কোর্টের অর্ডার সহ অন্যান্য নথিপত্র ছাড়া আমরা সার্টিফিকেট ইস্যু করি না। এবার আদালত কীসের ভিত্তিতে নির্দেশ দেবে, সেটা তারাই বুঝবে।’