নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত। একাধিক জায়গায় হাঙ্গামা, অবরোধ ও বিক্ষোভ চলে মঙ্গলবারও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে ধুন্ধুমার বাধে। বাসন্তীর সোনাখালি কর্মতীর্থে শুনানি চলছিল। অভিযোগ, সেখানে ভোটারদের একাংশ ঢুকে তাণ্ডব চালায়। ভাঙচুর করা হয়েছে চেয়ার টেবিল। ব্যাহত হয় হিয়ারিংয়ের কাজ। বাসন্তী হাইওয়ের উপর টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগ, শুনানির নামে হয়রানি করা হচ্ছে। শুনানি কেন্দ্রে যে সময়ে আসতে বলা হচ্ছে, তার অনেক পরে কাজ শুরু হচ্ছে। অবরোধের জেরে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ঠাকুরপুকুর মহেশতলা ব্লকের কালীতলা আশুতি থানার খানবেড়িয়াতেও একই কারণে প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করেন ভোটাররা।উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির ১ নম্বর ব্লক ন্যাজাট বিডিও অফিসে ভাঙচুর করা হয়। অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের নানা অজুহাতে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে বিডিও অফিসের মধ্যে ভাঙচুর শুরু করেন। ন্যাজাট থানার পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসইউসি’র জয়নগর ১ নম্বর ব্লক শাখার তরফে বহড়ু বাজারে রাস্তা অবরোধ করা হয়। সোনারপুর ব্লক অফিসে স্মারকলিপি জমা দেয় সিপিএম। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ঢোলাহাট থানার মাদারপাড়ায়। সকাল থেকে এলাকাবাসী রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। নোটিস পেয়ে শুনানিতে হাজিরা দেন মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার।উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় চার হাজার ভোটারকে শুনানির নোটিস পাঠানোয় মঙ্গলবার যশোর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। প্রায় একঘণ্টা অবরোধ, বিক্ষোভের জেরে দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয় মানুষকে। বারাসত থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ওই ওয়ার্ডের মোট ভোটার ১০ হাজার। ওয়ার্ডে ৮টি বুথ। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে সেখান থেকে প্রায় চার হাজার ভোটারকে নোটিস পাঠিয়ে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। ওয়ার্ডের সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। কমিশনের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলে এদিন মানুষ বারাসতের গেঞ্জি মিল সংলগ্ন যশোর রোডে এসে জমা হন। এরপরেই তাঁরা যশোর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পিচ রাস্তায় শুয়ে বিক্ষোভ, অবরোধ করেন।বারাসত ২ ব্লকে সিপিএমের ডেপুটেশন ঘিরে ধুন্ধুমার বাধে। সিপিএম কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বারাকপুরের মন্মথ নাথ স্কুলের শুনানি কেন্দ্রে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। বারাকপুর মহকুমা প্রশাসনিক ভবনে টাউন সভাপতি সম্রাট তফাদারের নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। তাঁরা মাটিতে বসে পড়েন। পানপুর বিডিও অফিসে হয়রানির অভিযোগে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন সিপিএম নেতা-কর্মীরা। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় তাঁদের। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসাররা মানছেন না বলে সিপিএম নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ। এদিকে, শুনানি চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন নৈহাটি বিধানসভার ৭৫ নম্বর পার্টের বিএলও কাকলি কর্মকার। তাঁকে জেটিয়ার নান্না হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। বরানগরে বিক্ষোভ দেখায় সিপিএম নেতৃত্ব। সিপিএমের রাজ্যনেতা সায়নদীপ মিত্র বলেন, বরানগরের ১৩ হাজার ৩৬০ জনকে ডাকা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অনেক বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ রয়েছেন।পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে পথ অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয় হুগলিতে। অভিযোগ, রাজহাট গ্রাম পঞ্চায়েতে ২২ নম্বর বুথের প্রায় ৩০০ জন বাসিন্দার নাম ফর্ম ৭ এর মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়েছে। ওই গ্রামের নাম ভুয়াগাছি। সেখানকার বাসিন্দারাই এদিন ব্যান্ডেল পোলবা রোডের ভুয়াগাছি মোড়ে বিক্ষোভ দেখান। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা সাফেরি সিদ্দিকির ডাকে এসআইআর প্রতিবাদে মঙ্গলবার মিছিল হয় ফুরফুরায়। নিজস্ব চিত্র