পর্ণশ্রী কাণ্ডে নয়া তথ্য: ক্লেপ্টোম্যানিয়া রোগে আক্রাম্ত, ব্র্যান্ডেড পোশাক-জুতো পরার অভ্যাস, টাকা না দিলেই খুন, বাড়ি থেকে ছুরি আনে সঞ্জু
বর্তমান | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পর্ণশ্রীতে সংগীত শিল্পী অনিতা ঘোষ খুনের ঘটনায় ধৃত আয়া সঞ্জু সরকারের লাইফস্টাইল দেখে তাজ্জব তদন্তকারীরা। দামি জামাকাপড় ব্যবহার, ভালো মানের স্মার্ট ফোন ব্যবহার থেকে শুরু করে হাইফাই লাইফস্টাইল বজায় রাখার চেষ্টা করত আয়া। নিত্য নতুন রিল বানানো ছিল তার নেশা। আর এই লাইফস্টাইল বজায় রাখতে টাকার দরকার পড়ত সঞ্জুর। যে কারণে চুরি করা তার বাতিকে পরিণত হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, টাকার লোভেই সে এসেছিল অনিতাদেবীর বাড়িতে। পরিকল্পনা করেই বাড়ি থেকে ছুরি নিয়ে বেরিয়েছিল।পর্ণশ্রীতে নিজের ফ্ল্যাটে সোমবার সকালে খুন হন অনিতা ঘোষ। তাঁকে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুন করা হয়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এই বাড়িতে দুবছর আগে কাজ করে যাওয়া আয়া সঞ্জুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের সে জানায়, টাকা চাইতে এসে না পাওয়ায় কারণেই খুন করে ওই শিল্পীকে। কিন্তু কেন টাকার দরকার ছিল? তদন্তকারীদের সে প্রথমে জানায়, বাড়িতে স্বামী ও ছেলে অসুস্থ। সংসার চালাতে পারছিল না। সেই কারণে টাকা চাইতে এসেছিল। তার বক্তব্য যাচাই করতে ডেকে পাঠানো হয় স্বামী, ছেলে সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের। সঞ্জুর স্বামী জানান, তিনি ফুড ডেলিভারি সংস্থার কর্মী। মাসে মোটামুটি রোজগার করেন। তিনি বা ছেলে কেউই অসুস্থ নন। ভুল ভাঙে তদন্তকারীদের। অভিযুক্ত মহিলার পরিবার পুলিশকে জানান, ছোটোবেলা থেকেই সঞ্জু ক্লেপ্টোম্যানিয়ায় আক্রান্ত। যে কোনও জায়গা থেকে জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়াটাই তার বাতিক। বছর দুই আগে চুরির অভিযোগে হরিদেবপুর থানায় ধরাও পড়ে।তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সঞ্জু লোকজনের কাছে নিজেকে ‘ধনী’ বলে জাহির করত। দামি দামি জামাকাপড় বা জিনিস কিনত। নিয়মিত পার্লারেও যেত। আবার লাইফস্টাইল বজায় রাখতে টাকার জোগাড়ে বিভিন্ন বাড়িতে আয়ার কাজে ঢুকত। যে সমস্ত বাড়িতে কাজ করেছে, তার সবকটি থেকেই কিছু না কিছু জিনিস সঞ্জু চুরি করেছে। একইসঙ্গে তার রিল বানানোর শখও ছিল। ফেসবুক প্রোফাইলে সেগুলি পোস্টও করত। তদন্তে উঠে এসেছে, সম্প্রতি এলাকার এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কে জড়িয়েছিল সে। তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে প্রথমে সঞ্জু জানিয়েছিল, অনিতাদেবীকে খুন করার মুহূর্তে ওই বাড়ির রান্নাঘর থেকে ছুরি নিয়ে এসেছিল। দীর্ঘ জেরায় ভেঙে পড়ে পরে পুলিশের কাছে স্বীকার করে, পরিকল্পনা করেই নিজের বাড়ি থেকে সে ছুরি নিয়ে বেরিয়েছিল। টাকা না পেলে বৃদ্ধা শিল্পীকে খুন করাই ছিল মূল টার্গেট।