• খোরপোশ মামলায় বারাসত আদালতে উত্তেজনা, আইনজীবীদের বাধায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারই করতে পারল না পুলিশ
    বর্তমান | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অভিযুক্তকে বাগে পেয়ে গ্রেপ্তার করতে উদ্যত পুলিশ। কিন্তু আগাম জামিনের আবেদন করতে অভিযুক্ত তখন আদালত চত্বরে আইনজীবীদের ঘেরাটোপে। ওই অবস্থায় কোনও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা উচিত নয়—এই দাবি তুলে পুলিশকে কার্যত বাধা দেন আইনজীবীরা। আর তা নিয়েই শুরু হয় দু’পক্ষের বচসা। যা গড়ায় ঠেলাঠেলি, ধস্তাধস্তিতে। শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় পুলিশ। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার না করেই ফিরতে হয় তাদের। মঙ্গলবার এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে বারাসত জেলা আদালতে। আইনজীবী ও আইনের রক্ষকদের এমন ‘সম্মুখসমর’ দেখে হকচকিয়ে যান আদালতে আসা লোকজন। এই আদালতে এমন ঘটনা বেনজির বলেই জানাচ্ছে অভিজ্ঞ মহল। যদিও আইনজীবী বা পুলিশ মহল—কারও তরফেই এনিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।বিধাননগর দক্ষিণ থানার একটি খোরপোশ সংক্রান্ত মামলাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। জানা গিয়েছে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত যুবক দীর্ঘদিন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীকে খোরপোশের টাকা দেননি। সেই কারণে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। মঙ্গলবার তিনি আগাম জামিনের আবেদন জানাতে বারাসত জেলা আদালতে হাজির হন। সঙ্গে ছিলেন কলকাতার আইনজীবীরা। অভিযোগ, ওই যুবক আদালতে আসার খবর পেয়ে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ আদালত চত্বরে পৌঁছে যায়। অভিযুক্ত আদালতের কাছাকাছি আসতেই তাঁকে পাকড়াও করতে যায় পুলিশ। তখন তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেন, আদালতের দ্বারস্থ হওয়া অভিযুক্তকে আদালত চত্বর থেকে গ্রেপ্তার করা উচিত নয়। আদালতই স্থির করবে, অভিযুক্ত জামিন পাবেন, নাকি হেপাজতে যাবেন। পুলিশের এই তৎপরতাকে বিচারব্যবস্থার পরিসরে হস্তক্ষেপ বলেও মনে করেন তাঁরা।  এনিয়েই বেধে যায় দু’পক্ষের তুলকালাম। আদালত চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত আইনজীবীদের ‘প্রভাবে’ পিছু হটে পুলিশ।বারাসত বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অলোক সমাজপতি বলেন, ‘অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খোরপোশের মামলা রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত যখন আগাম জামিনের আবেদন করতে আদালতে এসেছেন, তখন কোর্ট ক্যাম্পাস থেকে গ্রেপ্তার করা সমীচিন নয়। আদালতের সিদ্ধান্তই এখানে শেষ কথা হওয়া উচিত।’  বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের এক কর্তা অবশ্য দাবি করেন, ‘বারাসত আদালতে এই ধরনের কোনও ঘটনাই ঘটেনি।’ এদিন ওই আদালতে আসা এক বিচারপ্রার্থীর কথায়, ‘পুলিশ ও আইনজীবীর এমন ঝগড়া আগে দেখিনি।’  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)