কম দামেই মিলছে হরেক সামগ্রী, ভাঙা মেলায় জমজমাট সাগরদ্বীপ
বর্তমান | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছিল সাগরমেলায়। তিল ধারণের জায়গা ছিল না কপিলমুনির আশ্রমে। ঘরের কাছে মেলা হলেও ভিড়ের চাপে কেনাকাটা বা আনন্দ করতে পারেননি স্থানীয় মানুষজন। তবে মেলা শেষ হতেই শুরু হয়েছে সাগরদ্বীপের নিজস্ব উৎসব— ‘ভাঙা মেলা’।১৮ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এই মেলা, চলবে এক সপ্তাহ। সেখানে ৫০ টাকায় শাখা। ১০০ টাকায় জামা বিক্রি হচ্ছে। কম দামে মিলছে হরেক জিনিস। কম দামে পাওয়া যাচ্ছে কম্বল, ঝুড়ি সহ গৃহস্থালির সরঞ্জাম। শুধু সাগরদ্বীপ নয়, কাকদ্বীপ, নামখানার বাসিন্দারাও এই মেলায় ভিড় করছেন। মূলত গঙ্গাসাগর মেলায় ব্যবসায়ীদের যেসব সামগ্রী বিক্রি হয় না, সেগুলি তাঁরা আর ফেরত নিয়ে যান না। উলটে কম দামে বিক্রি করে দেন। তাই গৃহস্থালির সামগ্রী থেকে আসবাব, হরেক জিনিস মিলছে সস্তায়। এখন ভিড় না থাকায় স্থানীয়রা সময় নিয়ে মেলায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। দ্বীপাঞ্চলের মানুষের কাছে এটাই কেনাকাটার উপযুক্ত সময়। তটজুড়ে এখন শুধুই স্থানীয়দের কলতান। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরাও খুশি মনে পসরা সাজিয়ে বসেছেন শেষ মুহূর্তের লক্ষ্মীলাভের আশায়। সব মিলিয়ে মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নান শেষে গঙ্গাসাগর এখন মেতেছে আপনজনের মিলন উৎসবে। এখানে ব্যবসায়ীরা এসেছেন দূর-দূরান্তের জেলা থেকে।মুর্শিদাবাদ থেকে এসেছেন ফকির আলম। তিনি জামা ও কুর্তি বিক্রি করেন। আলমের কথায়, অন্যান্য সময় ২০০ টাকার নীচে এগুলি বিক্রি হয় না। কিন্তু এখন ভাঙা মেলায় ১০০ টাকায় ছেড়ে দিচ্ছি। চোখে পড়ল মাছ ধরার জাল। পরপর সারি দিয়ে রাখা রয়েছে বেশ কয়েকটি জাল। কেউ কেউ হাতে বোনা জাল বিক্রি করছেন, কেউ আবার মেশিনে বোনা জাল নিয়ে এসেছেন বিক্রি করতে। এক-একটি জাল দেড় থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাই কেনার জন্য ভিড় করছেন মৎস্যজীবীরা। খাবারের দোকান ছাড়া মেলা পূর্ণতা পায় না। সেকারণে মেলা প্রাঙ্গণেই দেখা গেল খাবারের অজস্র দোকান। কোথাও এগ রোল, কোথাও মোমো বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে ফুচকার স্টলও। নিজস্ব চিত্র