• বসিরহাটে কলেজপড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার এক, এখনও এলাকাছাড়া তৃণমূলের উপপ্রধান
    আনন্দবাজার | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
  • বসিরহাটে কলেজপড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার সলমল মণ্ডল। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করিয়ে ১৪ দিন হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। তবে বিচারক ১০ দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেছে। মৃত্যুর নেপথ্যে কী কারণ, তার উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

    মাটিয়া থানার চাঁপাপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সিথুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ২২ বছরের রিয়াজ মণ্ডল দিন চারেক ধরে নিখোঁজ ছিলেন। থানায় তাঁর নামে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছিল। সোমবার স্থানীয় একটি আমবাগানের ভিতরে পরিত্যক্ত ডোবায় যুবকের দেহ উদ্ধার করেন কয়েক জন গ্রামবাসী। খবর পেয়ে অকুস্থলে ছুটে যান রিয়াজের আত্মীয়-পরিজন। তাঁদের দাবি, খুন করা হয়েছে ওই কলেজপড়ুয়াকে। তাঁর শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

    রিয়াজের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তর ২৪ পরগনার মাটিয়া থানা এলাকা। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা পিন্টু মণ্ডল অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন। খবর ছড়াতেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি একদল লোক চড়াও হয় উপপ্রধানের বাড়িতে। অভিযোগ, সেখানে ভাঙচুর চলে। তৃণমূল নেতার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

    রিয়াজের নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যে সলমনের হাত রয়েছে, এমন সন্দেহ গত রবিবার তাঁকে এবং আরও একজনকে ধরেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপপ্রধান পিন্টু সলমনদের জেরা করতে দেননি। তিনিই থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। কেন তিনি এমন কাজ করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

    তার পরে সোমবারই রিয়াজের দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের পরিবারের দাবি, পিন্টুকেই ‘মূল হত্যাকারী’। উত্তেজনা ছড়াতেই সপরিবারে এলাকা ছাড়েন পিন্টু। সোমবার রাতে পুলিশ আবার সলমনকে গ্রেফতার করে। খুন নাকি রিয়াজের মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সলমনকে জেরা করে সব অধরা প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

    অন্য দিকে, মঙ্গলবারও নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় মাটিয়ায়। উপপ্রধান-সহ আসল খুনিদের গ্রেফতারির দাবিতে খোলাপোতা মালঞ্চ রোডের আকিপুর এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান মৃতের পরিবার এবং গ্রামবাসীরা।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)