বুথ স্তরে দল এখনও দুর্বল। তাই তৃণমূলের মতো প্রতিপক্ষের সঙ্গে সেয়ানে-সেয়ানে মোকাবিলা করতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হচ্ছে বিজেপি কর্মীদের। যাঁরা রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভায় ইতিমধ্যেই নীরবে কাজও শুরু করে দিয়েছেন। বিজেপি শিবিরের মতে, এদের পোশাকি নাম হল ‘চুনাও সহযোগী’। ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে তিন হাজার নির্বাচন সহযোগী নামানো হয়েছে বঙ্গে। প্রয়োজনে তা আরও বাড়ানো হবে। ভিন্ রাজ্য থেকে কর্মী আনাকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল।
আজ দিল্লিতে বিজেপির জাতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন নিতিন নবীন। সূত্রের মতে, এ মাসের শেষ সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গে যেতে পারেন তিনি। সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে এক বার পশ্চিমবঙ্গে যাওয়ার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। অন্য দিকে, ভোট ঘোষণার আগে ১০ বার পশ্চিমবঙ্গে আসার পরিকল্পনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। ইতিমধ্যেই ছ’বার রাজ্যে গিয়েছেন তিনি। দল চাইছে ফেব্রুয়ারিতে মাধ্যমিক শুরুর আগে আরও অন্তত দু’বার প্রধানমন্ত্রীকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে যাওয়ার।
পশ্চিমবঙ্গে সব বুথে এখনও সংগঠন গড়ে তুলতে পারেনি বিজেপি। কোথাও সংগঠন থাকলেও তা খাতায়-কলমেই। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যওয়াড়ি কর্মীদের সাহায্য করতেই ভিন্ রাজ্য থেকে ‘চুনাও সহযোগী’দের পাঠাতে শুরু করেছে বিজেপি। দল বলছে, যাঁদের পাঠানো হয়েছে তাঁরা মূলত সাংগঠনিক কাজে সিদ্ধহস্ত। এঁদের জেলাস্তর থেকে বুথস্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিজেপি সূত্রের খবর, রাজ্যে কর্মরত ‘চুনাও সহযোগী’রা দলের শক্তি ও দুর্বলতা মাপার পাশাপাশি, দলের সম্ভাব্য প্রার্থী কারা হতে পারেন, কোনও একটি নির্দিষ্ট বিধানসভায় কোন বিষয়টিকে প্রচারের হাতিয়ার করলে দল ভাল ফল করবে, তা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেবেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। যার ভিত্তিতে পরবর্তী রণকৌশল ঠিক হবে। সহযোগীদের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার এক বা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে বিজেপির পক্ষে আনারও দায়িত্বে রয়েছে তাঁদের। যাতে ওই বিশিষ্ট ব্যক্তি আরও দশ জনকে বিজেপির ছাতার তলায় নিয়ে আসতে পারেন। মূল লক্ষ্য, দলের পরিধি ও সমর্থক সংখ্যা বৃদ্ধি করা। বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘‘অতীতে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র বা হরিয়ানার মতো রাজ্যে পিছন থেকে সক্রিয় থেকে এই চুনাও সহযোগীরাই হারা ম্যাচ জিতিয়ে দিয়েছে বিজেপিকে।’’
পশ্চিমবঙ্গে জয়ের জন্য বিজেপি কর্মীদের কোমর বেঁধে মাঠে নামতে আজ পরামর্শ দিয়েছেন নড্ডা ও নিতিন। কিন্তু আজ নিজের বক্তৃতায় পশ্চিমবঙ্গের নাম না করে অনুপ্রবেশ নিয়ে সরব হয়েছেন। বলেছেন, ‘‘অনুপ্রবেশকারীরা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় বিপদ। এদের কারণে জন্যসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তাই তাদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে তাড়াতে হবে।’’ মোদীর সংযোজন, ‘‘বিশ্বের সবথেকে ধনী ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলিও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাঁদের তাড়িয়েদিচ্ছে। গোটা বিশ্ব তা দেখছে। কিন্তু প্রশ্ন করছে না, কেন তুমিএদেরকে তাড়িয়ে দিচ্ছ বলে? তুমি এক দিকে গণতন্ত্রের ধ্বজা তুলে সরব, আবার সেই তুমি অন্য দিকে পৃথিবীর রাজা বলে নিজেকে প্রতিপন্নকরতে চাইছ।’’
মোদীর মতে, আসলে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতোই ভারতও অনুপ্রবেশকারীদের পছন্দ করে না। ভারতও অনুপ্রবেশকারী ছাড় দিতে পারে না। কারণ এরা সরাসরি দেশের গরিব ও যুব সমাজদের অধিকার কেড়েনিচ্ছে। মোদী বলেন, ‘‘ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে যে সব দল অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে জনতার সামনে সেই সব রাজনৈতিক মুখোশ খুলে দেওয়ার উপরে জোর দিতে হবে।’’ বিজেপির অন্য রাজ্যের লোক পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো প্রসঙ্গে তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপি মুখে অনুপ্রবেশের কথা বলে যাচ্ছে। অথচ তারা অন্য রাজ্য থেকে ভাড়াটে লোক এনে ভিড় জমাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে।