• কলকাতায় আসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, রাস্তা অবরোধ আশাকর্মীদের, স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের আগেই ধুন্ধুমার
    এই সময় | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
  • একাধিক দাবিতে বুধবার স্বাস্থ্য ভবন অভিযান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়ন’। এ দিন সকাল থেকে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের নানা প্রান্ত থেকে কলকাতায় আসার পরিকল্পনা রয়েছে আশাকর্মীদের। কিন্তু বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, দুর্গাপুর, উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গায় আশাকর্মীদের অভিযোগ, কলকাতায় যেতে তাঁদের বিভিন্ন ভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাস মালিকদের প্রভাবিত করার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। উঠেছে পুলিশি বাধার অভিযোগও।

    মাসিক ভাতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে একাধিক দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন রাজ্যের আশাকর্মীদের একাংশ। বুধবার স্বাস্থ্য ভবনে গিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের কাছে তাঁদের ডেপুটেশন দেওয়ার কথা। সে কারণে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশাকর্মীরা কলকাতায় আসছিলেন।

    এ দিন কলকাতায় যাওয়ার জন্য খাতড়ার সিমলাপাল রোড এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন আশাকর্মীরা। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, বাস মালিকদের প্রভাবিত করা হয়েছে। তাই তাঁরা কলকাতায় যাওয়ার জন্য কোনও বাস পাচ্ছেন না। তাঁরা খাতড়ার পাম্প মোড়ে অবরোধ শুরু করেন। এর ফলে খাতড়া-বাঁকুড়া ও খাতড়া-সিমলাপাল রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়াও বড়জোড়া ব্লকের বেলিয়াতোড়ে বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারী আশাকর্মীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনাগুলির ফলে ব্যাহত হয় যান চলাচল। ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

    অন্যদিকে, দুর্গাপুর স্টেশনে প্রবেশের মুখে পুলিশের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন আশাকর্মীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মে যেতে নিষেধ করে পুলিশ। পরে কয়েকজন আশাকর্মী কার্যত জোর করে স্টেশন ঢুকে হাওড়াগামী ট্রেনে চড়ে বসেন। কলকাতার দিকে রওনা দেওয়া আশাকর্মী রিনা রায় বলেন, ‘ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য স্বাস্থ্য ভবনে যাচ্ছি। আমরা ট্রেনে চড়েছি ঠিকই, কিন্তু এখনও দুর্গাপুর স্টেশনে আমাদের অনেক কর্মী আটকে আছেন।’

    পুলিশের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উঠেছে বেলদা স্টেশনে। কেশপুরের আশা কর্মী শিপ্রা ঘোষালকে তাঁর সিপাই বাজারের বাড়ি থেকে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদিকা পাপিয়া দাস অধিকারীকে খাকুড়দায় বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ, অভিযোগ এমনটাই। এ ছাড়াও আশাকর্মীদের একাংশকে শিয়ালদহ স্টেশন এবং সেক্টর ফাইভে আটকে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    এ দিকে আশাকর্মী সংগঠনের এই কর্মসূচির সঙ্গে রাজনৈতিক যোগ দেখছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি দাবি করেছেন, ‘আশাকর্মীদের রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’ তিনি আরও দাবি করেছেন, আশাকর্মীদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহানুভূতিশীল। তাঁদের কোনও রাজনৈতিক স্বার্থে পাতা ফাঁদে পা না দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। আশাকর্মীরা কেন্দ্রের প্রকল্পের অংশ হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটে তাঁদের উৎসাহ ভাতা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয় না কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। যদিও বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার দাবি করেছেন, ‘বাংলায় কোনও ন্যায্য দাবি করলে পুলিশের লাঠি মেলে।’ অন্যদিকে, আন্দোলনকারী আশাকর্মীদের দাবি, মাসিক ভাতা-সহ একাধিক ন্যায্য দাবিতে তাঁদের আন্দোলন। তাঁদের আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টার করা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)