মেসি-মারাদোনার মূর্তি নিয়ে রাজ্য সরকার-পুরসভাকে কড়া প্রশ্ন, রিপোর্টও চাইল হাইকোর্ট
আজ তক | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
লেকটাউনে লিওনেল মেসি ও দিয়েগো মারাদোনার মূর্তি ঘিরে বিতর্কে নড়েচড়ে বসল কলকাতা হাইকোর্ট। সরকারি জমিতে নিয়ম ভেঙে এই দুই ফুটবল তারকার মূর্তি বসানো হয়েছে কি না, তা জানতে রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে আদালত।
প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার নগর উন্নয়ন দফতর এবং দক্ষিণ দমদম পুরসভাকে নির্দেশ দিয়েছে, কোন উদ্দেশ্যে মূর্তি দুটি নির্মাণ করা হয়েছে এবং এই নির্মাণ এলাকার মাস্টার প্ল্যান লঙ্ঘন করেছে কি না, তা স্পষ্ট করে জানাতে। পাশাপাশি সরকারি জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্ত নিয়ম মানা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেয় আদালত। মামলাকারীর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের ২০১০ সালের নির্দেশ অনুযায়ী সরকারি জমিতে এমন কোনও স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করা যায় না, যা জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। সেই নির্দেশ লঙ্ঘন করেই মেসি ও মারাদোনার মূর্তি বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
উল্লেখ্য, ভিআইপি রোডে স্থাপিত প্রায় ৭০ ফুট উঁচু লিওনেল মেসির মূর্তিটি গত ১৩ ডিসেম্বর কার্যত উন্মোচন করা হয়। মূর্তির হাতে থাকা বিশ্বকাপ ট্রফির রেপ্লিকা প্রায় আট ফুট উঁচু, যা মেসির আসল উচ্চতার থেকেও বেশি। এই মূর্তি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে, বিশেষ করে ফুটবলারের সঙ্গে মূর্তির চেহারার মিল না থাকা নিয়ে।
অন্যদিকে, লেক টাউনের মারাদোনার মূর্তিটি ২০১৭ সালে কলকাতা সফরের সময় স্বয়ং দিয়েগো মারাদোনা উন্মোচন করেছিলেন। দুই মূর্তিই রাজ্যের দমকল ও জরুরি পরিষেবা মন্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক সুজিত বসুর উদ্যোগে তৈরি, যিনি শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজোর অন্যতম প্রধান সংগঠক।
অ্যাডভোকেট অরুণাংশু চক্রবর্তী দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানি শেষে আদালত বিবাদীদের তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। চার সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।