• স্মৃতিতে করমণ্ডল, ‘কবচ’–সুরক্ষা বসাতে পূর্ব রেলকে ২২৪ কোটি
    এই সময় | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: পূর্ব রেলের বিভিন্ন শাখাকে স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপদ করার জন্য প্রায় ২২৪ কোটি টাকা অনুমোদন করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রেল জানিয়েছে, এই টাকায় পূর্ব রেলের অন্তত ৪৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ ‘কবচ’ সুরক্ষা পাবে।

    একই লাইনে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে পর পর দু’টি ট্রেন এসে পড়ে যাতে দুর্ঘটনা না–ঘটে, তার জন্য সম্পূর্ণ দেশজ প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে অটোম্যাটিক ট্রেন প্রোটেকশন (এটিপি) সিস্টেম। সেটাই ‘কবচ’। ইতিমধ্যেই হাওড়া–দিল্লি লাইনে এবং অন্য আরও কয়েকটি রুটে এই ব্যবস্থা চালু করার কাজ শুরু হয়েছে। রেল কয়েক বছর ধরেই দাবি করে আসছে যে, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষাই অগ্রাধিকারের তালিকায় তাদের কাছে এক নম্বরে।

    পূর্ব রেল সূত্রের খবর, হাওড়া–সাঁতরাগাছি, লিলুয়া–বেলুড় মঠ, তারকেশ্বর–গোঘাট, ময়নাপুর–বিষ্ণুপুর, রামপুরহাট–দুমকা, আজিমগঞ্জ–মুর্শিদাবাদ, লক্ষ্মীকান্তপুর–নামখানা, বালিগঞ্জ–কাঁকুড়গাছি, কল্যাণী–কল্যাণী সীমান্ত, কৃষ্ণনগর জংশন–আমঘাটা, কৃষ্ণনগর সিটি–লালগোলা, আসানসোল–বার্নপুর, বরাচক–হিরাপুর এবং বক্তারপুর–অন্ডাল অংশে কবচের কাজ শুরু হবে।

    ২০২৪–’২৫–এর রেল বাজেটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই কবচ সুরক্ষা–ব্যবস্থা বসানোর জন্য ২৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ করা হয়েছিল। এর মধ্যে শুধু পূর্ব রেলের খাতেই ছিল ৮৯৬ কোটি টাকা। ২০২৩–এর জুনে ওডিশার বাহানাগা বাজার স্টেশনে করমণ্ডল এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনা এবং তার ফলে ৩০০ যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই গোটা দেশে যত দ্রুত সম্ভব ‘কবচ’ বসানোর দাবি উঠতে থাকে। তার পরের রেল বাজেটে রেলের সুরক্ষা–খাতে বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ বেড়ে যায় অনেকটাই। রেলপথের পয়েন্ট এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থা ঢেলে সাজার কাজ শুরু হয়।

    তবে শুধু এ টুকুই নয়, বাহানাগা বাজার স্টেশনে যে ভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছিল— অর্থাৎ সিগন্যালের সমস্যার জন্য একই লাইনে দুটো ট্রেন এসে পড়ায় তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ— সে রকম যাতে না ঘটে, তার পুনরাবৃত্তি আটকাতে ‘কবচ’ ছাড়া অন্য কোনও প্রযুক্তিই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তার জন্যই যত দ্রুত সম্ভব অটোম্যাটিক ট্রেন প্রোটেকশন চালু করতে রেল বোর্ড মরিয়া।

  • Link to this news (এই সময়)