• রাজপথে বিক্ষোভ, মিছিল আশাকর্মীদের, একাধিক রাস্তায় যানজট, কোন পথ এড়িয়ে চলবেন?
    এই সময় | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
  • ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা স্থায়ী ভাতা-সহ একাধিক দাবিতে বুধবার স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়ন’। রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের কাছে ডেপুটেশন দেওয়ার জন্য জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশাকর্মীরা এ দিন সল্টলেকমুখী হওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কিন্তু সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ উঠছিল, কলকাতায় যাওয়ার পথে আটকানো হচ্ছে আশাকর্মীদের। কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়। পুলিশি বাধার অভিযোগ তুলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন আশাকর্মীদের একাংশ। বিক্ষোভের আঁচ পড়ে রাজপথেও। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ধর্মতলার দিকে এগোতে শুরু করে আশাকর্মীদের একটি মিছিল। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ট্র্যাফিক পুলিশকে।

    বুধবার শিয়ালদহের ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে বেশ কিছু সময় আটকে রাখা হয়েছিল আশাকর্মীদের একাংশকে, অভিযোগ ওঠে এমনটাই। যদিও পরে তাঁদের সেখান থেকে যেতে দেওয়া হয়। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে মিছিল করে আশাকর্মীরা ধর্মতলার দিকে এগোতে শুরু করে। তাঁদের কলকাতা পুরভবনের সামনে ব্যারিকেড করে আটকে দেয় পুলিশ। বেশ কয়েকজন আশাকর্মী ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করেন। এর ফলে পরিস্থিতি আরও তপ্ত হয়। মাইকে করে পুলিশ জানায়, ওই জায়গায় জমায়েত করার কোনও অনুমতি নেই আশাকর্মীদের কাছে। শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয় পুলিশের তরফে।

    এই মিছিলের ফলে মৌলালি, শিয়ালদহ ব্রিজের দক্ষিণমুখী রাস্তায় ব্যাপক যানজট হয়। কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের তরফে জানানো হয়, মৌলালি ক্রসিং থেকে প্রয়োজন মতো গাড়িগুলি ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যদিও কিছুক্ষণ পরেই ট্র্যাফিক পুলিশের তরফে জানানো হয়, মিছিলটি মৌলালি ছাড়ার পরে সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অন্যদিকে, সল্টলেক এলাকায় যানজটের কারণে চিংড়িহাটা ফ্লাইওভার এবং উত্তরমুখী ইএম বাইপাসের রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এই মিছিলের প্রভাব পড়েছে এসএন ব্যানার্জি রোডের উপরেও। ডোরিনা ক্রসিংমুখী এসএন ব্যানার্জি রোডে প্রয়োজন অনুযায়ী যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আশাকর্মীদের মিছিলের জন্য মেয়ো রোড, রেড রোড, আরআর অ্যাভিনিউ এবং এজেসি বোস রোডের ট্র্যাফিক পরিষেবার উপরে প্রভাব পড়তে পারে বলে জানা যাচ্ছে। এ দিকে এ দিনই শহিদ মিনার চত্বরে রয়েছে ISF-এর কর্মসূচি। দলের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেখানে যোগ দিকে উত্তর ২৪ পরগনা থেকে এসেছেন দলীয় সমর্থকরা। ফলে ওই এলাকায় ট্র্যাফিকের বাড়তি চাপের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, আশাকর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযান প্রসঙ্গে মঙ্গলবারই রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দাবি করেছিলেন, ‘আশাকর্মীদের রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে’। বুধবার সল্টলেক থেকে প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় আশাকর্মীদের পাশে থাকার বার্তা দেন। যদিও তাঁকে দেখে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন বিক্ষোভরত আশাকর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য, এই আন্দোলন অরাজনৈতিক। অন্য কোনও রাজনৈতিক রং তাঁরা এতে লাগতে দেবেন না। এক আশাকর্মী বলেন, ‘ভোট এলেই আমাদের অনেক প্রতিশ্রুতি দেয় সমস্ত দল। কিন্তু তার পরে লাভ কিছু হয় না।’ যদিও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য মঙ্গলবারই বার্তা দেন,  আশাকর্মীদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহানুভূতিশীল। তাঁদের কোনও রাজনৈতিক স্বার্থে পাতা ফাঁদে পা না দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)