• SIR নোটিস পেয়েই মৃত্যু জলপাইগুড়ি-হাড়োয়ায়
    আজকাল | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর আতঙ্কে রাজ্যে ফের মৃত্যুর অভিযোগ। এবার ঘটনাস্থল জলাপাইগুড়ি। মৃত ব্যক্তির নাম মকবুল হক। বয়স ৬১। সূত্রের খবর, সম্প্রতি তাঁকে এসআইআর শুনানির নোটিস পাঠানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পর, গত পরশু থেকেই চরম উদ্বেগে ভুগছিলেন। পরিবারের অভিযোগ এসআইআর আতঙ্ক থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যন সেই ভয়ের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন।

    অন্যদিকে, এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুর অভিযোগ হাড়োয়া ব্লকের হাড়োয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব মাদারতলা গ্রামে। মঙ্গলবার রাতে SIR হেয়ারিং-এ ডাকার ফলে আতঙ্কিত মৃত্যু হয় সহর আলী মণ্ডল নামের ওই ব্যক্তির। তাঁর বয়স ৬৭। বাড়ি হাড়োয়ার পূর্ব মাদারতলা গ্রামে।

     পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০০২ সালে ভোটার লিস্টে নাম থাকা সত্ত্বেও SIR এর হিয়ারিং এ ডাকা হয়েছিল। বুধবার হিয়ারিং-এর ডেট ছিল। ফলে বেশ কয়েকদিন ধরেই আতঙ্কে ছিলেন। চিন্তা ভাবনায় খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। বুধবার হিয়ারিং-এর ডেট ছিল, তার আগেই মঙ্গলবার মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। পাশাপাশি আরও জানা যায়, একই পরিবারে পাঁচ জনকে হিয়ারিং-এ ডাকা হয়েছিল । আতঙ্কে ভুগছিলেন যে, ছেলেদের কীভাবে বাঁচানো যায়। কীভাবে তাঁদের ভোটার তালিকায় নাম উঠবে। এই নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন । 

    হাড়োয়া স্থানীয়  তৃণমূল নেতা পঞ্চায়েত সদস্য স্বপন মণ্ডল জানান, 'একের পর এক মানুষের মৃত্যু ঘটছে এই SIR আতঙ্কে। অবিলম্বে SIR বন্ধ হওয়া উচিত। না হলে আমরা আরও বহু মানুষের মৃত্যু দেখতে পাব চোখের সামনে ।'

    এর আগে, মঙ্গলবার জানা যায়, এসআইআর আতঙ্কে মুর্শিদাবাদে মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি থানার নওদাপাড়া গ্রামে এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু হয় ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির। মৃতের নাম আকসার শেখ। স্বামী, স্ত্রী ও চার ছেলে সহ ছয় জনের সংসার তাঁদের। আকসারের তিন ছেলে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিনরাজ্যে কর্মরত। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে বাড়ির গৃহকর্তার। 

    মৃতের এক আত্মীয় জানান,  এসআইআর–এর জন্য বিএলও–র কাছে প্রয়োজনীয় নথি সহ ‘‌এনুমারেশন ফর্ম’‌ জমা দিয়েছিল তাঁরা সকলে। কিন্তু কিছুদিন আগে শুনানির নোটিশ যায় তাঁদের বাড়িতে। ফলে নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্কে ভুগছিলেন আকসার । সোমবার রাতে হঠাৎই আকসারের বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। বাড়ির লোকজন তৎক্ষণাৎ তাঁকে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা আকসারকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেন। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই রাস্তায় মৃত্যু হয় আকসারের। 
  • Link to this news (আজকাল)