আজকাল ওয়েবডেস্ক: খাস কলকাতায়, দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। প্রাথমিকভাবে যুবকের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও, যুবকের পরিবা খুনের অভিযোগ তুলেছে। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য এলাকায়।
শহর কলকাতার সরশুন থানা এলাকার সুরশুনা রাম রোডের EWS আবাসনে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও, পরে মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্ত্রী ও শ্যালকের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
নিহত যুবকের নাম সানি সিং (৩৪)। তিনি একবালপুর লেন ও সুরশুনা রাম রোড—এই দুই ঠিকানাতেই বসবাস করতেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। মঙ্গলবার ভোরে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সুরশুনা থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ৬টা ৫৫ মিনিটে ‘১০০ ডায়াল’-এর মাধ্যমে খবর যায় যে সুরশুনা রাম রোডের একটি বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায়, সানি সিং অচেতন অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন এবং তার স্ত্রী পুনীতা সিং তাকে কোলে নিয়ে বসে রয়েছেন। এলাকায় তখন বহু মানুষ জড়ো হয়েগিয়েছিলেন বাড়ির সামনে।
এই ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেশী কল্লোল হীরক পুলিশকে জানান, সকাল আনুমানিক ৬টা ৫০ মিনিট নাগাদ পুনীতা সিং তাকে জানান যে, তাঁদের শোবার ঘর বাইরে থেকে তালাবদ্ধ এবং তিনি তার নাবালিকা কন্যা তনিশা সিং-সহ ঘরের ভিতরে আটকে পড়েছেন। সাহায্যের আবেদন জানালে প্রতিবেশীরা সেখানে পৌঁছান। পরে পুনীতা সিং পাশের বারান্দা দিয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় বেরিয়ে আসেন।এরপর নিজের কাছে থাকা চাবি দিয়ে বাড়ির মূল গ্রিল গেট খোলা হয়। স্থানীয় সূত্রে পুলিশ আরো জানতে পারে, কাঠের দরজার তালাটি আগেই ভাঙা ছিল, যা পারিবারিক ঝগড়ার সময় সানি সিং নিজেই ভেঙেছিলেন বলে দাবি। ডাইনিং রুমে ঢুকেই প্রতিবেশীরা দেখতে পান, ছাদের পাখার সঙ্গে ‘ওড়না’ ব্যবহার করে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছেন ওই যুবক। তড়িঘড়ি তাঁকে বিদ্যাসাগর এস.জি. হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সকাল প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে আরও খবর, প্রাথমিক পরীক্ষায় গলায় অসম্পূর্ণ ফাঁসের দাগ ছাড়া দেহে অন্য কোনও বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। পুলিশি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মৃতের সঙ্গে তার স্ত্রী পুনীতা সিং-এর দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক অশান্তি চলছিল। গত ছয় মাস ধরে তারা সুরশুনা এলাকায় ভাড়াবাড়িতে বসবাস করছিলেন। এমনকি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পুনীতা সিং স্বামীর বিরুদ্ধে সুরশুনা থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেছিলেন।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার আগের রাত অর্থাৎ ১৯ জানুয়ারি সানি সিং ও তার স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়। অভিযোগ, ওই সময় সানি সিং তার স্ত্রী ও কন্যাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং পরে পুনীতা সিং ও তার মেয়েকে ফের বাড়িতে ঢোকানো হয়। এই ঘটনার উল্লেখ রয়েছে সার্সুনা থানার জিডি এন্ট্রিতে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সানি সিং নিয়মিত মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন।ঘটনার পর সুরশুনা থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয় এবং ব্যবহৃত ওড়নাটি তথ্য প্রমান হিসেবে বাজেয়াপ্ত করা হয়। একই দিনে কাটাপুকুর পুলিশ মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী ফাঁসিতে ঝোলার ফলেই মৃত্যু হয়েছে এবং তা অ্যান্টি-মর্টেম প্রকৃতির অর্থাৎ মৃত্যুর আগে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে ছিলেন যুবক এবং তার ফলে মৃত্যু হয়েছে। তবে, এই ঘটনার মোড় ঘোরে মৃতের বোন সঙ্গীতা সাউ-এর লিখিত অভিযোগের পর। তার অভিযোগের ভিত্তিতে সুড়শুনা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে মৃতের স্ত্রী পুনীতা সিং ও তার ভাই রাকেশ পাসওয়ানের বিরুদ্ধে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত খুন—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে লালবাজার পুলিশ।