চন্দ্রকোনা কাণ্ডে শুভেন্দুকে রক্ষাকবচ হাইকোর্টের, রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব
আজ তক | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
কলকাতা হাইকোর্ট স্বস্তি দিল রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় গাড়িতে হামলার ঘটনা ও পাল্টা অভিযোগের মামলায় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এই নির্দেশ দেন। হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। সেইসঙ্গে এই মামলায় চন্দ্রকোনায় শুভেন্দুর কনভয়ে হামলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য সরকারের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছে হাইকোর্ট।
উল্লেখ্য, গত ১০ জানুয়ারি পুরুলিয়ায় কর্মসূচি সেরে ফেরার পথে চন্দ্রকোনায় শুভেন্দুর গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ওইদিন রাস্তায় ধারে দাঁড়িয়েছিলেন বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা। সেইসময় রাস্তার উল্টোদিকে তৃণমূলের পতাকা হাতে দাঁড়িয়েছিলেন বেশ কয়েকজন। শুভেন্দুর অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়িতে হামলা চালায়।দ্রুত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা শুভেন্দুর গাড়ির সামনে চলে আসেন। ঘটনার পরই বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সোজা চন্দ্রকোনা পুলিশের বিট হাউসে পৌঁছে যান। হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। আইসির রুমে মেঝেতে বসে পড়েন তিনি। ঘণ্টা ছয়েক পর অভিযোগ দায়ের করে থানা ছাড়েন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ দায়ের করে থানা ছাড়ার পরদিন সকালেই দেখা যায় নাটকীয় মোড়। বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধেই পাল্টা একটি অভিযোগ দায়ের হয় থানায়। অযথা পুলিশের হেনস্থা ও গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বিরোধী দলনেতা। বুধবার তাঁর আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন যে, যাঁর ওপর হামলা হলো, তাঁকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত শুভেন্দুর আইনি রক্ষাকবচ বজায় রাখার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে, ওই দিন চন্দ্রকোনায় শুভেন্দুর কনভয়ে ঠিক কী ঘটেছিল এবং নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল কি না, তা জানতে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে আদালত। আগামী ২৯ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ওই মামলায় কোনওরকম কঠোর বা প্রতিকূল পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না। এই নির্দেশের ফলে আপাতত বড়সড় স্বস্তি পেলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ শুনানি না হওয়া পর্যন্ত শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কোনও ধরনের জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।