উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক আশাকর্মীই ট্রেনে চেপে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছোন। স্টেশনের মধ্যেই তাঁদের আটক করার অভিযোগ। স্টেশনের বাইরে বার হতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এমনকী তাঁদের ফিরতি ট্রেনে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। হাওড়া স্টেশনে ছাড়া শিয়ালদহ স্টেশনেও একই চিত্র। সেখানেও চলছে ধরপাকড়। প্রতিবাদে ডোমজুড়ের শলপে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন আশাকর্মীদের একাংশ। ব্যাহত হয় যান চলাচল।
রাজ্যের প্রায় সর্বত্রই একই ছবি। কাউকে স্টেশনে তো কাউকে রাস্তায় আটকানোর অভিযোগ উঠেছে। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে চৈতালি সর্দার নামে এক স্বাস্থ্যকর্মীকে রাস্তা থেকে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। তারই প্রতিবাদে হিঙ্গলগঞ্জ থানার সামনে স্বাস্থ্যকর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরাতেও থানার মধ্যে বিক্ষোভ দেখান আশাকর্মীরা। বুধবার সকালে ডেবরা এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৬০ জন আশাকর্মীকে আটক করে ডেবরা থানার পুলিশ। বাস থেকে নামিয়ে বা রেলস্টেশনে পৌঁছোনোর আগেই আশাকর্মীদের ধরে থানায় নিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে।
আসানসোলেও আশাকর্মীদের বাস আটকায় পুলিশ। বাসে থাকা আশাকর্মীদের থানায় বসিয়ে রাখা হয়। রানিগঞ্জ রেলস্টেশন, অন্ডাল, দুর্গাপুর, কাঁকসাতেও আটকে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। শুধু তা-ই নয়, থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েক জন আশাকর্মীকেও পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে থানার ভেতরে বসিয়ে রাখে বলে জানা গিয়েছে।
বুধবার সকাল থেকেই সল্টলেক স্বাস্থ্যভবনের সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রচুর সংখ্যায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্বাস্থ্যভবনের সামনে বিশাল ব্যারিকেড করা হয়েছে। কেউ যাতে ব্যারিকেড টপকে উল্টো দিকে যেতে না-পারে, তা বন্দোবস্ত করেছে পুলিশ।
মাইকিং করে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। বেলা বাড়লে সেই নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। কোনওভাবে যাতে আশা কর্মীরা স্বাস্থ্যভবনের সামনে জমায়েত করে বিক্ষোভ, অবস্থান না করতে পারেন, সেই দিকে নজর রাখা হচ্ছে। এদিন স্বাস্থ্য ভবনে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরুপ নিগমের কাছে আশা কর্মীদের স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা। এদিন এই কর্মসূচি ঘিরে অশান্তির আঁচ করছে প্রশাসন।
যত বেলা গড়াচ্ছে ওই ব্যারিকেডের সামনে জড়ো হচ্ছেন আশাকর্মীরা। অনেকে সেখানে বসেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান। তবে যে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তৎপর পুলিশ। স্থায়ী সাম্মানিক ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা-সহ একাধিক দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন আশাকর্মীরা।
নিজেদের দাবি আদায়ে ২৯ দিন ধরে রাজ্য জুড়ে কর্মবিরতি পালন করছেন তাঁরা। যদিও আশাকর্মীদের এই আন্দোলন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, আশাকর্মীদের রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মন্ত্রীর বার্তা, ‘আশাকর্মীদের উপরে মুখ্যমন্ত্রীর সহানুভূতি রয়েছে। তাই ভরসা রাখুন। রাজনৈতিক স্বার্থে পাতা কোনও ফাঁদে পা দেবেন না।’