সন্দীপ প্রামাণিক: শীতের হিমেল রাতে একটু উষ্ণতার আশায় আগুন জ্বালানোই কাল হয়ে দাঁড়াল গার্ডেনরিচের এক বৃদ্ধার জীবনে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
গার্ডেনরিচ থানার অন্তর্গত ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রিন্স দিলবার ঝা লেনের বাসিন্দা লক্ষ্মী দেবী (৬৬) দীর্ঘদিন ধরেই শীতকালে ঘরের ভেতরে ডিমের ট্রে জ্বালিয়ে আগুন পোহাতেন। পরিবারের লোকজন জানান, গতকালও প্রতিদিনের মতোই তিনি ঘরের মধ্যে আগুন জ্বালিয়েছিলেন।
হঠাৎ পাশের ঘর থেকে পোড়া গন্ধ পেয়ে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরা। তারা এসে দেখেন ঘরের ভেতরে ভয়াবহভাবে আগুন লেগে গেছে এবং আগুনে পুড়ে গুরুতর অবস্থায় পড়ে আছেন লক্ষ্মী দেবী। সঙ্গে সঙ্গে গার্ডেনরিচ থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তারপর ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা লক্ষ্মী দেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় পরিবার পরিজনদের কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা বাড়ি। প্রতিবেশীরাও এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
পুলিস মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা বলেই মনে করছে পুলিস।
উল্লেখ্য, বুধবার সকালে সরশুনায় যুবকের রহস্যমৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। জানা গিয়েছে, স্বামীকে গলায় ফাঁস দিয়ে খুনের অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে। মৃতের বোনের অভিযোগ ভাইকে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করেছে তাঁর স্ত্রী। মৃত যুবক সানি সিং। গ্রেফতার স্ত্রী পুনিতা সিং ও তার ভাই রাকেশ পাসোয়ান।
কী কারণে স্বামীকে খুন করল স্ত্রী? পুলিসের অনুমান, পারিবারিক বচসার জেরেই এই ভয়ংকর কাণ্ড। সম্ভবত তৃতীয় কোনও ব্যক্তি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চলে আসাটা হত্যাকাণ্ডের মোটিভ। যদিও গোটা বিষয়টা এখনও তদন্ত সাপেক্ষ। এই মুহূর্তে তদন্তের স্বার্থে কোনও কিছুই বলতে নারাজ সরশুনা থানার পুলিস।
পুলিস আরও জানিয়েছে, সানি তাঁর স্ত্রী পুনিতা এবং মেয়ে তানিশার সঙ্গে সরশুনার একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। ঘটনার আগের রাতেও তাঁদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়। সানির ঘরের ভিতর সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত দেহ প্রথমে উদ্ধার করেন পুনিতা এবং প্রতিবেশীরা। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি সরশুনা থানায় জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। পুলিস জানায়, সানির গলায় একটি দাগ ছাড়া শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।