অর্ণবাংশু নিয়োগী: অতীতে একদিন কাজ করেই বাজিমাত!
সুপ্রিম নির্দেশে একাদশ দ্বাদশ থেকে চাকরি গিয়েছিল। কিন্তু পূর্বতন জায়গায় মাত্র ১ দিন কাজ করেই ফিরে পেলেন আগের চাকরি।
একাদশ দ্বাদশ চাকরি পাওয়ার আগে মাত্র ১ দিন একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছিলেন বর্ধমানের বাসিন্দা সুদীপ চ্যাটার্জি। পাননি বেতন। কিন্তু এসএসসিতে চাকরি পাওয়ার পরেই সেখান থেকে রিজাইন করেছিলেন সুদীপ।
পরবর্তীতে সুপ্রিম নির্দেশের পর চাকরি গিয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট এটাও নির্দেশে এটাও বলা হয়েছিল, যোগ্যরা যদি কেউ কোন চাকরি ছেড়ে এসে এসএসসিতে যোগদান করেছিলেন তারা পূর্বতন চাকরিতে ফিরে যেতে পারবেন।
এই নির্দেশ ব্যবহার করেই হাইকোর্টে মামলা। রাজ্য সরকার মামলাকারীর আবেদনের বিরোধিতা করে। একদিন চাকরি করে এপ্রুভাল না পাওয়ায় আগের চাকরি ফিরে পেতে পারবেন না মামলাকারী। মামলাকারীর আইনজীবী, আশীষ কুমার চৌধুরী সওয়াল করে বলেন, 'সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশে কোথাও অ্যাপ্রুভাল পাওয়া বা বেতন পাওয়ার ওপর নির্ভর করে চাকরি ফেরত দেওয়ার কথা বলেনি। একদিন রেজিস্ট্রি বুকে স্বাক্ষর করা মানেই সে চাকরি করেছিলেন। তার পূর্বতন অভিজ্ঞতা রয়েছে'।
হাইকোর্টের বিচারপতি বিভাস পট্টনায়েক নির্দেশ দিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী মামলাকারী চাকরি করেছিলেন এটাই প্রমাণিত। তাই আগের জায়গায় চাকরি ফিরে পাওয়ার কোন বাধা নেই।
অন্যদিকে, বারবার থমকে যাচ্ছে এসএসসির ২৬,০০০ নিয়োগ প্রক্রিয়া। বয়েস জনিত সমস্যার কারণে সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। এবার সেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসএসসির ২০১৬ রুলের পরিপন্থী ২০২৫ রুল । রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধে কিছু মামলা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ ও ডিভিশন বেঞ্চ ঘুরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়। যে কারণে সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করতে হয়েছিল এই মামলাকারীদের। এই সংক্রান্ত অন্য মামলায় খারিজ করলেও মামলাকারী অভিজিৎব সাঁধুখা সহ ৫৫ জন মামলাকারীদের মামলা চলতে থাকে সুপ্রিম কোর্টে।
এরই মাঝে নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে যায় স্কুল সার্ভিস কমিশন। অথচ মামলাকারী অভিজিৎ সাধুখাঁ দের দায়ের করা মামলা ২০১৬ সালের নিয়োগ সংক্রান্ত রুলকে চ্যালেঞ্জ করে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে গত ২৬ শে নভেম্বর ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট সমস্ত বিষয় এবং অভিযোগ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন।
সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশ মেনে অভিজিৎ সাধুখাঁ-সহ ৫৫ জন মামলাকারী তারা মঙ্গলবার বিচারপতি অমৃতা সিনার এজলাসে দ্বারস্থ হন। এ দিন বিচারপতি অমৃতা সিনহা মামলাকারী অভিজিৎ সাধুখাঁ সহ অন্যান্য মামলাকারিদের পক্ষের আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরীর কাছে বিচারপতি জানতে চান, মামলায় এত দেরিতে কেন দায়ের করা হলো? উত্তরে আইনজীবী জানান ,এই মামলার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দায়ের করা হয়েছে। যেখানে মামলাকারীদের মামলা দায়ের করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন যে ২০২৫ এর যে নিয়োগ সংক্রান্ত পুরো আইনটাই ২০১৬ সালের রুল না মেনে করা হয়েছে অর্থাৎ ২০১৬- রুলের পরিপন্থী ২০২৫ এর রুল বলে অভিযোগ।
বিচারপতি অমৃতা সিনহা মামলা গ্রহণ করেন। স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি সাপেক্ষেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিচারপতি অমৃতা সিনহা এসএসসিকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে ফলকনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।