সোমবারই নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই অনুযায়ী বুধবার সন্ধ্যায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। জানিয়ে দেওয়া হলো, শনিবারের মধ্যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ তালিকা প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে গৃহীত হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশের জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগামী শনিবার অর্থাৎ ২৪ জানুয়ারির মধ্যে জনসমক্ষে এই তালিকা প্রকাশ করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ এবং জনবহুল এলাকায় তালিকা টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোটারদের দেখতে সুবিধা হয়।
তালিকায় যাঁদের নাম থাকবে, তাঁরা ১০ দিন সময় পাবেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁদের নথি জমা দিতে হবে। তার বদলে রিসিট দেবে নির্বাচন কমিশন। নথি জমা দেওয়ার পরে শুরু হবে শুনানি প্রক্রিয়া। সেই সময়ে ভোটারদের সশরীরে হাজিরা দিতে হবে। প্রয়োজনে তাঁরা আইনজীবী বা বুথ লেভেল এজেন্ট ২-দের সাহায্য নিতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
তবে বর্তমানে SIR-এর শুনানি চলছে। সেই প্রক্রিয়া বন্ধ হচ্ছে না। এখন যাঁরা শুনানিতে নথি জমা দিচ্ছেন, তাঁদের নাম যদি লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি তালিকায় থাকে, তা হলেও চিন্তার কিছু নেই বলে জানিয়েছে কমিশন। সমস্ত নথি BLO অ্যাপে আপলোড করা হবে। অ্যাডমিট কার্ডে জন্মতারিখের উল্লেখ থাকলে নথি হিসেবে জমা দেওয়া যাবে তাও।
উল্লেখ্য, যে সব ভোটারের নামের বানান ভুল, বয়স সংক্রান্ত কোনও অসামঞ্জস্য কিংবা পারিবারিক তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে, তাঁদেরই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায় ফেলা হয়েছে। এই নিয়ে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক জনসভা থেকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি।
সেই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে তৃণমূল। তার পরেই গত সোমবার নির্বাচন কমিশনকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস ও ওয়ার্ড অফিসে সেই তালিকা টাঙিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই বিজেপিকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেছিলেন, ‘আজ কোর্টে হারালাম, এপ্রিলে ভোটে হারাব।’