• এসআইআর শুনানির আতঙ্কে প্রাণহানি
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ার পূর্ব মাদারতলা গ্রামে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সহর আলি মণ্ডল, তাঁর দুই ছেলে-সহ মোট পাঁচজনকে এসআইআর শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। নোটিস পাওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিক চাপে ভুগছিলেন। ছেলেদের ভোটার তালিকায় নাম থাকবে তো? ভবিষ্যতে কোনও আইনি বা প্রশাসনিক সমস্যায় পড়তে হবে না তো? এই প্রশ্নই তাঁর মনে দুশ্চিন্তা তৈরি করেছিল। পরিবারের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি ঠিকমতো ঘুমোতে পারছিলেন না, সবসময় উৎকণ্ঠায় থাকতেন।

    মঙ্গলবার রাতে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন সহর আলি মণ্ডল। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও আতঙ্কের জেরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে খবর ছড়াতেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার ওই পরিবারের শুনানিতে যাওয়ার কথা ছিল।

    একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের গড়ালবাড়ি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায়। হরিপুকুরি বুথের বাসিন্দা ৬৫ বছরের মকবুল হকের মৃত্যু হয়েছে বুধবার। পরিবারের দাবি, তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। সোমবার বাড়িতে এসআইআর শুনানির চিঠি আসে। অসুস্থতার কারণে ২৮ জানুয়ারি বাড়িতেই শুনানির সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সেই খবর শোনার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। আত্মীয় রফিকুল আলমের দাবি, নামের বানান ভুলের উল্লেখ থাকা চিঠি পাওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে ছিলেন মকবুল।

    মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতে আবার মৃত্যু হয়েছে ৭৫ বছরের হাসিনা বিবির। তাঁর ছেলের নামে শুনানির নোটিস আসার পর থেকেই তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন এবং অসুস্থতাই মৃত্যুর কারণ।

    এই ঘটনাগুলি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। হাড়োয়ার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য স্বপন মণ্ডলের অভিযোগ, ‘এসআইআর আতঙ্কে একের পর এক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে আরও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটবে।’ বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, এসআইআর একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, এর সঙ্গে মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক নেই।

    পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় আলাদা করে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ যে বাড়ছে, তা মানছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)