সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার ইস্যু তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পুরুলিয়ায় ৬৮০ কোটি টাকা কেন্দ্র আটকে রেখেছে, যা পেলে জেলার আরও দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব হত। তিনি উল্লেখ করেন, তৃণমূল সরকার ইতিমধ্যে একশো দিনের কাজের পাওনা টাকার জন্য সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে এবং আদালত কেন্দ্রকে বকেয়া টাকা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। এসআই আর ইস্যুতেও রাজ্যের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে রায় এসেছে। এই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “বিজেপির আবর্জনা আছে। সেগুলো আলসার, রেখে দিলে ক্যানসার। এবার ৫০-এর গণ্ডি পেরতে দেব না।”
সভায় তিনি কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত যোজনার অভিযোগেরও পাল্টা ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, “যাদের হাতে স্মার্টফোন, বাড়িতে টিভি, মোটরবাইক বা পাকা ছাদ আছে, তারা আয়ুষ্মান ভারত পাবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রায় ১০ কোটি মানুষ উপকৃত হয়েছেন।” অভিষেক জানান, রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রকল্পে সবাই সুবিধা পাচ্ছেন, যা কেন্দ্রের আয়ুষ্মান যোজনার শর্তে সীমাবদ্ধ নয়।
পুরুলিয়ার অতীত ও বর্তমানের তুলনা তুলে অভিষেক বলেন, ২০১১ সালের আগে জেলার মানুষ মাওবাদী নাশকতা ও রাজনৈতিক হিংসার ভয়ে জীবনযাপন করতেন। জঙ্গলমহলের এক সময়কার অশান্ত অধ্যায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে শান্তি ও উন্নয়ন ফিরে এসেছে। তিনি বাম আমলের পুলিশি দুরবস্থা ও ঝালদায় তৃণমূলের নেতা খুনের প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে নিশানা করেন।
তৃণমূলের সভাপতির বক্তব্যে বাম থেকে বিজেপিতে রূপান্তরের তীব্র কটাক্ষও থাকে। তিনি ট্রাফিক সিগন্যালের উদাহরণ ব্যবহার করে বলেন, লাল মানে থামো, গেরুয়া মানে ধীরে চলো, সবুজ মানে এগিয়ে চলো। তাঁর মতে, পুরুলিয়ায় বাম আমলের হার্মাদরা আজ বিজেপির জল্লাদ। তিনি সরাসরি পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতকে লক্ষ্য করে প্রশ্ন তুলেন, মোদী সরকারের ১১ বছরে জেলার জন্য কী উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে চক্রধরপুর এক্সপ্রেস ও পুরুলিয়া এক্সপ্রেসের নিয়মিত দেরির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চিত করেন, নির্বাচনের তিন মাসের মধ্যে রেলের সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, “রাত ১০টার ট্রেনে উঠে পরের দিন ভোরে পৌঁছনো বরদাস্ত করব না।” এছাড়া ভোটের সময় বিজেপি যদি নগদ বিতরণ করে, তখন দর কষাকষি করার কথাও সভায় জানান। তিনি বলেন, “এক হাজার টাকা দিলে দশ হাজার চাইবেন। তাই পদ্ম ফুল থেকে জোড়া ফুলে ভোট দিন, যাতে ভোট বাক্স খুললে ওদের চোখে সর্ষে ফুল ফোটে।”
সভায় অভিষেক ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা তৃণমূলকে ‘বাংলাদেশি’ বলে অভিশাপ দিচ্ছেন, তাদের শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব ভোটের মাধ্যমে জনগণের হাতে। তিনি জানান, এক মাস পর আবার পুরুলিয়ায় আসবেন এবং যেকোনো এলাকার জনগণ যেখানেই চায়, সেখানে উপস্থিত হবেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সব আসনে তৃণমূল জিতলে ছয় মাসের মধ্যে জেলার সব দাবি পূরণের চেষ্টা করবেন।
এদিন অভিষেক কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও এস আই আর ইস্যু নিয়ে আরও সরব হন। তিনি বলেন, “৪ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এস আই আর-এর ফলে প্রায় ১০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্র টাকা দেয়নি, পানীয় জলের ব্যবস্থা রাজ্য করেছে। রাস্তা, বাড়ি, ১০০ দিনের কাজ—সবই আটকে ছিল।” সভায় অভিষেক আরও বলেন, জেলা উন্নয়নের জন্য তৃণমূলের সঙ্গে মানুষ আছে, আর বিজেপির আছে শুধু পদ, মানুষ নেই।
এই সভার মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুরুলিয়ার মানুষকে তৃণমূলকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তৃণমূলের চতুর্থবারের সরকার গঠনে পুরুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। সভায় তিনি বারবার পুরুলিয়ার উন্নয়ন ও শান্তির খতিয়ান তুলে ধরেন এবং আসন্ন বিধানসভা ভোটে জেলার ৯টি আসনে বিজেপিকে পরাজিত করার বার্তা দেন।