• কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে যাওয়ার পথে বিপদ, রেল পুলিশের হোমে সালারের নাবালক পরিযায়ী শ্রমিক
    এই সময় | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • সাবালক হওয়ার আগেই কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছিল তারা। তাতেই ঘনিয়ে এল বিপদ। কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে গিয়ে বিপদে পড়ল মুর্শিদাবাদের সালার থানার দুই নাবালক কিশোর। ছত্তিসগড়ের রায়পুর স্টেশনে রেল পুলিশ আটক করেছে ওই দুই নাবালককে। পুলিশ সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদের ওই দুই কিশোর এখন রায়পুরে রেল পুলিশের তত্ত্বাবধানে একটি হোমে হয়েছে। এই খবর মিলতেই চরম উদ্বেগে রয়েছে পরিবারগুলি। আটক দুই কিশোরের বাড়ি সালার থানার মাখালতোড় ও দত্তবরুটিয়া গ্রামে। মঙ্গলবার ওই দুই পরিবারের লোক ছত্তিসগড়ে রওনা দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।

    পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৬ জানুয়ারি পূর্ব বর্ধমানের ঝামটপুর গ্রামের পাঁচজন যুবকের সঙ্গে সালারের এই দুই কিশোর ভিনরাজ্যে যাওয়ার জন্য বাড়ি ছাড়ে। সুরাটে শ্রমিকের কাজে যোগ দিতে যাওয়ার কথা ছিল তাদের। সবাই একই ট্রেনে যাচ্ছিল। ওই ট্রেন ছত্তিসগড়ের রায়পুর স্টেশনে পৌঁছনোর পরে কোনওভাবে রেল পুলিশের নজরে পড়ে। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ সকলের বয়স যাচাই করে। তখনই জানা যায়, সাতজনের মধ্যে মাত্র দু’জনের বয়স ১৮ বছরের বেশি, বাকি পাঁচজনই নাবালক।

    এরপর পূর্ব বর্ধমানের পাঁচজন এবং সালারের দুই কিশোরকে রায়পুরের একটি রেল হোমে রাখা হয়। সালার থানা এলাকার বাসিন্দা যে দুই নাবালক কিশোর আটক হয়েছে, তারা সম্পর্কে তুতো ভাই। এক কিশোরের মা বলছেন, ‘ছেলেকে আটকে রাখার খবর পাওয়ার পর থেকেই রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। বহু জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করেও কোনও নিশ্চিত খবর পাচ্ছি না। তাই ওর বাবাকে রায়পুরে পাঠানো হয়েছে। ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত আর ওকে কাজে পাঠাব না।’ একই কথা বলেছেন, আর এক কিশোরের মা-ও। তিনি বলেন, ‘সংসারের অভাবের কারণেই অল্প বয়সে কাজে যেতে দিতে হয়েছিল। এখন একটাই প্রার্থনা। যে ভাবেই হোক, ছেলেরা সুস্থভাবে বাড়ি ফিরে আসুক।’ এই ঘটনায় নাবালকদের পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে বাইরে যাওয়া নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ শুরু হয়েছে জেলায়।

  • Link to this news (এই সময়)