• তমলুকের পুরপ্রধান হলেন বৈদ্যনাথ সিনহা, হাইকোর্টের নির্দেশে নির্বাচন
    এই সময় | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, তমলুক: অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে তমলুক পুরসভায় চেয়ারম্যান নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। তবে শপথ গ্রহণের আগেই বেরিয়ে যান প্রাক্তন চেয়ারম্যান চঞ্চল খাঁড়া-সহ বেশ কয়েক জন তৃণমূল কাউন্সিলার। উল্লেখ্য, গত ১১ নভেম্বর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে তমলুক পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন দীপেন্দ্রনারায়ণ রায় ও লীনা মাভৈ রায়। এরপরে রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশে, নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এক মাসের জন্য তমলুক পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার চঞ্চল খাঁড়াকে অস্থায়ীভাবে চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়।

    অভিযোগ ওঠে, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তিনি চেয়ারম্যান পদে থেকে পুরসভার কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল নেতা তথা ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার পার্থসারথি মাইতি ও বিজেপি কাউন্সিলার জয়া দাস নায়েক, শবরী চক্রবর্তী। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তমলুক পুরসভার চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ম মেনে হয়নি।

    এক মাসের মধ্যে কাউন্সিলারদের ভোটের মাধ্যমে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুসারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চঞ্চল নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য সমস্ত কাউন্সিলরাদের নোটিস পাঠান। সেই নোটিসের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে পুরসভার মিটিং-রুমে বৈঠকে যোগ দেন কাউন্সিলাররা। সভাপতিত্ব করেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দীপেন্দ্রনারায়ণ। চেয়ারম্যান পদে বৈদ্যনাথ সিনহার নাম প্রস্তাব করা হয়। তাতে সমর্থন জানান সমস্ত কাউন্সিলার।

    পরে নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান পদে পাঁচ নম্বরের ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুফিয়া বেগমকে নিয়োগ করেন। এরপরে পুরসভার এগজ়িকিউটিভঅফিসার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে শপথ বাক্য পাঠ করান। বিজেপি কাউন্সিলার জয়া ও শবরী বলেন, 'অবৈধভাবে চেয়ারম্যান হিসেবে বসেছিলেন চঞ্চল খাঁড়া। আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। আদালতে নির্দেশে আজ চেয়ারম্যান নির্বাচন হয়েছে। চাইব, নতুন চেয়ারম্যান সমস্ত ওয়ার্ডে দলমত নির্বিশেষে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন।'

    নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বৈদ্যনাথ বলেন, 'সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম চেয়ারম্যান হিসেবে প্রস্তাব করা হয়। সমস্ত কাউন্সিলরাকে সঙ্গে নিয়ে পুরসভার উন্নয়নে কাজ করতে চাই।' বেশ কিছু কাউন্সিলারের মিটিং হল ত্যাগ করার প্রসঙ্গে বলেন, 'পুরসভার নিয়ম মেনে নির্বাচন হওয়ার পরেই কাউন্সিলরারা বেরিয়েছেন।' চঞ্চলের কথায়, 'পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিল। আমি তা পালন করেছি। দল নতুন চেয়ারম্যানের নাম পাঠিয়েছিল। সেই অনুযায়ী আজ শপথ হয়েছে। আমরা সবাই দলের নির্দেশেই উপস্থিত হয়েছিলাম।' সবমিলিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েন ও আইনি লড়াইয়ের পরে তমলুক পুরসভায় নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন হলেও রাজনৈতিক চাপানউতোর ও বিতর্ক যে এখনও পুরোপুরি থামেনি, তা এ দিনের ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট বলে মনে করছেন বিরোধী শিবির।

  • Link to this news (এই সময়)