• বিলাসবহুল মহারাজা এক্সপ্রেস বেলাইনের চেষ্টা জয়পুরে
    বর্তমান | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিদেশি পর্যটকে ঠাসা ট্রেনে নাশকতা ঘটিয়ে ভারতের মুখ পোড়ানোর চক্রান্ত চলছে? জানা গিয়েছে, জয়পুরে বিলাসবহুল ট্রেন মাহারাজা এক্সপ্রেসকে বেলাইনের চেষ্টা করেছে দুষ্কৃতীরা। দুর্ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে রেল লাইন জুড়ে পেতে রাখা হয়েছিল একাধিক লোহার রড এবং বিভিন্ন ধাতব বস্তু। সেক্ষেত্রে বড়োসড়ো দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। একাধিক প্রাণহানি ঘটতে পারত। যদিও সংশ্লিষ্ট ট্রেনের লোকো পাইলটের তৎপরতায় প্রাণে বেঁচেছেন মহারাজা এক্সপ্রেসের সব যাত্রী। ইতিমধ্যেই এব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছে রেলমন্ত্রক। এই মুহূর্তে সারা দেশে যতগুলি বিলাসবহুল ট্যুরিস্ট স্পেশাল ট্রেন চলে, তার মধ্যে মহারাজা এক্সপ্রেস অন্যতম। জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ এই ট্রেনে নাশকতার চেষ্টা হয়।ট্রেনটি সেইসময় যাচ্ছিল জয়পুর থেকে সোয়াই মাধোপুরের দিকে। শিবদাসপুর এলাকায় মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালের কাছে একটি রেলওয়ে ক্রসিং পেরনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই রেল লাইনে একাধিক লোহার রড এবং ধাতব বস্তু পড়ে থাকতে দেখেন চালক। মুহূর্তের মধ্যে তিনি এমার্জেন্সি ব্রেক মারেন। ট্রেন দাঁড়িয়ে যায়। খবর পাঠানো হয় নিকটবর্তী স্টেশনে। আসে আরপিএফ, জিআরপি এবং ডগ স্কোয়াড। প্রাথমিক তদন্তে রেল নিশ্চিত হয়েছে, নিছকই লোহার রড এবং ধাতব বস্তু পড়ে ছিল না রেল লাইনে। সেগুলো কোণাকুণিভাবে এমন অবস্থানে ছিল যাতে স্পষ্ট, ট্রেন বেলাইন করাই একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল দুষ্কৃতীদের। সেসময় মহারাজা এক্সপ্রেসে ১০০ জনেরও বেশি বিদেশি পর্যটক ছিলেন বলে রেল সূত্রে জানানো হয়েছে। স্বাভাবিক কারণেই এবিষয়ে রেল যাত্রীদের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগেরও সৃষ্টি হয়েছে। পুরো ঘটনার জেরে মহারাজা এক্সপ্রেস আধ ঘণ্টারও বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকে। রেল লাইন ‘ক্লিয়ার’ করার পর ফের তা চালানো হয়। রেলে নাশকতার চেষ্টা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২০২৩ সালের ৫ জুন থেকে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসংক্রান্ত একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল রেল বোর্ড। তাতে জানানো হয়েছে, উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে মোট ২৪বার ট্রেন বেলাইনের চেষ্টা করেছে দুষ্কৃতীরা। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ট্রেনচালক অথবা রেলকর্মীদের তৎপরতায় বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা। এবার এই তালিকার নবতম সংযোজন হল বিলাসবহুল মহারাজা এক্সপ্রেস ট্রেন।
  • Link to this news (বর্তমান)