কল্যাণ পুরসভায় বিজেপিকে ছেড়ে রাজ থ্যাকারের দলের সঙ্গে জোট সিন্ধে সেনার, সহায় ‘সংরক্ষণ’, মুম্বইয়ে মেয়রের স্বপ্ন দেখছে উদ্ধব শিবির
বর্তমান | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
মুম্বই: মহারাষ্ট্রে পুরভোটের ফলপ্রকাশের পর নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত! জোটশরিক বিজেপি বাদ দিয়েই কল্যাণ-ডোম্বিভলি পুরসভায় বোর্ড গঠন করছে একনাথ সিন্ধের শিবসেনা। সঙ্গী কে? ‘দীর্ঘদিনের শত্রু’ রাজ থ্যাকারের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা বা এমএনএস। কারণ, এই পুরসভায় মেয়র পদকেই টার্গেট করেছিল বিজেপি। সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিতেই শত্রুর সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন একনাথ। পরিসংখ্যান বলছে, ১২২ আসনের কল্যাণ-ডোম্বিভলি পুরসভায় কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বিজেপি জিতেছে ৫০টি আসনে। সিন্ধে সেনা ও এমএনএসের দখলে গিয়েছে যথাক্রমে ৫৩ ও ৫টি ওয়ার্ড। উদ্ধব থ্যাকারের দল জয়ী হয়েছে ১১টিতে। পাটিগণিতের সহজ হিসেবে মহাযুতির দুই শরিক বিজেপি ও সিন্ধে সেনা সহজেই বোর্ড গঠন করতে পারত। কিন্তু, মেয়র পদ নিয়ে দু’দলের মধ্যে দড়ি টানাটানি শুরু হয়। সেই সংঘাত এড়াতেই রাজের দলের সঙ্গে জোট বাঁধে সিন্ধে শিবির। কিন্তু, ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছতে তাদের আরও চার কাউন্সিলারের সমর্থন দরকার। বুধবার এনিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন দু’দলের শীর্ষ নেতারা। তারপরই রাজ থ্যাকারের দলের হাত ধরার কথা ঘোষণা করেন একনাথ সিন্ধের ছেলে শ্রীকান্ত। পাশাপাশি, উদ্ধব শিবির থেকে ৪ কাউন্সিলার যোগ দেবেন বলেও তাঁর ইঙ্গিত। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচন পরবর্তী এই জোট বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা।এই পর্বে বৃহন্মুম্বই পুরসভার মেয়র নির্বাচন নিয়েও শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা। এই পুরসভায় সবচেয়ে বেশি আসন জিতেছে বিজেপি। তা সত্ত্বেও মেয়র হতে পারেন উদ্ধব গোষ্ঠীর কোনও এক জনপ্রতিনিধি। সৌজন্যে বৃহন্মুম্বই পুরসভার জটিল নিয়ম! জানা গিয়েছে, দেশের অন্যতম বৃহৎ এই পুরসভায় পুরুষ, মহিলা, তফসিলি জাতি-উপজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর ও সাধারণ শ্রেণির জন্য মেয়র পদ সংরক্ষিত থাকে প্রতিবার। তবে সেই সংরক্ষণের সুবিধা কোন শ্রেণি পাবে, তা নির্ধারণ হয় লটারির মাধ্যমে। বিদায়ী পুরবোর্ড ছিল সাধারণ শ্রেণির হাতে। তাই এবার লটারিতে এই সম্প্রদায় সুযোগ পাবে না। যদি কোনোভাবে লটারিতে তফসিলি উপজাতি শ্রেণি নির্ধারিত হয়, তাহলে উদ্ধব শিবিরের ভাগ্যে শিঁকে ছিড়তে পারে। কারণ, বিজেপি বা সিন্ধে সেনা কারো দলেই এই সম্প্রদায়ের জনপ্রতিনিধি নেই। উদ্ধব শিবিরে একজন করে মহিলা ও পুরুষ এসটি কাউন্সিলার রয়েছেন। তাঁরা আবার মারাঠিও। আজ, বৃহস্পতিবার নগরোন্নয়ন দপ্তরে সেই লটারি হওয়ার কথা। সরকারি এই দপ্তর রয়েছে একনাথের হাতে। তা নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে।এবার মহারাষ্ট্রের পুরভোটে বেশ কয়েকটি সংখ্যালঘু প্রভাবিত এলাকায় মিম প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হিসাবেই দেখছেন সিন্ধে গোষ্ঠীর নেতা সঞ্জয় নিরূপম। তাঁর কথায়, মহারাষ্ট্র সরকারকে সমস্যা ফেলতে কৌশলে মুসলিম দ্বীপ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। মুম্ব্রাকে সবুজ দিয়ে রাঙিয়ে দেওয়া পরিকল্পনা নেওয়া মিম দাঙ্গাবাজদের পার্টি। যদিও সিন্ধেপন্থী শিবসেনা নেতার সমস্ত দাবি খারিজ করে দিয়েছে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দলের নেতারা। ফাইল চিত্র