নাগরিকত্ব ঠিক করা কাজ নয়, চাপের মুখে সুপ্রিম কোর্টে স্বীকার কমিশনের
বর্তমান | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘কাউকে দেশ থেকে তাড়ানো আমাদের লক্ষ্য নয়। ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণই একমাত্র উদ্দেশ্য। আর সেই কাজের জন্যই ‘স্রেফ’ নাগরিকত্বের বিষয়টি পরীক্ষা হচ্ছে। তার বেশি কিছু নয়। কোনও পুলিসি তদন্তও হচ্ছে না।’ স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) শুনানিতে শেষমেশ চাপে পড়ে সুপ্রিম কোর্টে এমনটাই জানাল নির্বাচন কমিশন। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘এডিআরে’র আবেদনে এসআইআর মূল মামলার শুনানি চলছে। সেখানেই কমিশনের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বিষয়টি স্পষ্ট করেন।এসআইআর ইস্যুতে সাধারণ মানুষের একাংশে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে কি নাগরিকত্ব থাকবে না? কী হবে তালিকায় নামহীন ব্যক্তিদের? সেই প্রশ্নেরই জবাব দিল কমিশন। আসলে নাগরিকত্ব যাচাই যে কমিশনের কোনও অধিকারই নেই, সেটাই স্পষ্ট হয়েছে। শুনানিতে রাকেশ দ্বিবেদী বলেন, এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় যদি কারও নাম না থাকে, তাহলেই তিনি নাগরিক নন, এটা কমিশন ঠিক করতে পারে না। তারা দেশে থাকবেন কি না, সেটাও আমাদের বিষয় নয়। তবে আমাদের মতে, ১৮-ঊর্ধ্ব ভারতীয় নাগরিকদের ভোটার তালিকায় নাম তোলাটা সাংবিধানিক কর্তব্য।কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদের যদি কোনও কারণে সরকারি সুবিধা পেতে সমস্যা হয়? তার কী হবে? ফলে এসআইআর করাটা কমিশনের কাজ হলেও তা কি বিচারবিভাগের পর্যালোচনার বাইরে? শুনানির পর্যবেক্ষণে মন্তব্য করেন জয়মাল্য বাগচী। বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলা ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরে এর একাংশ খুলনা পূর্ব-পাকিস্তানে চলে যায়। অন্য অংশ ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয়। ভারতের ইতিহাস কিন্তু বৈচিত্র্যপূর্ণ। তাই এসআইআর প্রক্রিয়ায় এই বিষয়গুলিও মাথায় রাখতে হবে। যা শুনে চুপ করে যান কমিশনের আইনজীবী।অন্যদিকে, এসআইআর নিয়ে যত বিতর্ক, বিরোধই থাকুক না কেন, তা হবেই বলেই ফের স্পষ্ট করে দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। জানিয়ে দেন, বুথ লেভেল আধিকারিকরাই নামের তালিকা তৈরির অথরিটি। তাদেরই কাজ নাম তোলা। সঠিকভাবে কাজ করা। বুধবার ভারত মণ্ডপমে ‘ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক তিনদিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্ধোধনে বিশ্বমঞ্চের সামনে তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভারত অনেক এগিয়ে। স্বাধীনতার অনেক আগে বিহারের বৈশালীতে শুরু হয়েছিল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। সেই বিহারেই সম্প্রতি হয়েছে ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণের কাজ। ভোটও হয়েছে সেই তালিকায়।কিন্তু ভোট দিতে পারেননি বলে কোনও অভিযোগ জমা পড়েছিল কি? হয়েছি কি কোনও বুথে পুনর্নিবাচন? বলেন, বিহারে অভিযোগ ছিল শূন্য। পুনর্নিবাচনের দাবিও ওঠেনি কোনও বুথে। ফলে বাংলা হোক তামিলনাড়ু, এসআইআর ইস্যুতে বিতর্ক চলতে থাকলেও তা থামবে না।