• সাধারণতন্ত্র দিবসে প্ল্যান জঙ্গি হানার, কোড নেম ‘২৬-২৬’, নেপথ্যে আইএসআই, দেশজুড়ে হাই অ্যালার্ট
    বর্তমান | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: আর মাত্র চারদিন। সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপনে মেতে উঠবে গোটা দেশ। তার আগেই অশনি সংকেত। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সাধারণতন্ত্র দিবসের দিনই রাজধানী দিল্লি সহ দেশের বহু শহরকে নিশানা করেছে জঙ্গি সংগঠনগুলি। বড়োসড়ো হামলায় কেঁপে উঠতে পারে একাধিক এলাকা। অপারেশনের কোড নেম ২৬-২৬। ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি। সেকথা মাথায় রেখেই এই নামকরণ। টার্গেট অযোধ্যার রামমন্দির, জম্মুর রঘুনাথ মন্দির থেকে শুরু করে দেশের নানা মন্দির ও উত্তর দিল্লির জনবহুল এলাকাগুলি। এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে রয়েছে খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠন, জয়েশ-ই-মহম্মদ ও আল কায়েদার মতো সংগঠন। শামিল বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনও। আর কলকাঠি নাড়ছে আইএসআই। এক্ষেত্রে মিডিয়ামের কাজ করছে পাঞ্জাবের এক গ্যাংস্টার। সূত্রে খবর, বিদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে ওই গ্যাংস্টার। দেশের মাটিতে হরিয়ানা, বৃহত্তর দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানে তার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে রয়েছে। আর সেই নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়েই দেশে নাশকতার প্ল্যান করা হয়েছে। সেকথা মাথায় রেখে দেশজুড়ে অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। দিল্লি, জম্মু-কাশ্মীর সহ নানা জায়গায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর দিল্লির জনবহুল এলাকাগুলিকে টার্গেট করেছে জঙ্গিরা। এই অঞ্চলের লালকেল্লা, আইএসবিটি কাশ্মীরি গেট, চাঁদনি চক, সদর বাজার ও মেট্রো স্টেশন ‘হটস্পট’। এরইমাঝে দিল্লি পুলিশের তরফে একটি ওয়ান্টেড নোটিস জারি করা হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকজনের নাম, পরিচয় ও ছবি রয়েছে। তালিকায় রয়েছে দক্ষিণ ভারতে একাধিক বোমা হামলার মাস্টারমাইন্ড  শাহিদ ফয়জল। রয়েছে মহম্মদ রেহান নামে দিল্লির এক বাসিন্দা। আসলে সে আলকায়েদা জঙ্গি। রাজধানীর পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরেও সজাগ রয়েছে পুলিশ-প্রশাসন ও সেনা।গতবছর ফরিদাবাদ সহ দিল্লির একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ৩০০ কেজিরও বেশি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছিল। হোয়াইট কলার টেরর মডিউল তথা মেডিকেল মডিউল সামনে আসতেই চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এখনও দিল্লি ও তার আশপাশের গোপন জেরায় প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত রয়েছে। সেগুলিকে এই অপারেশনে ব্যবহার করা হতে পারে। একাংশের কথায়, অপারেশন সিন্দুরে পরিবার হারিয়ে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে জয়েশ-ই-মহম্মদের চিফ মাসুদ আজহার। তার বদলা নিতেই এই হামলার পরিকল্পনা।সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজধানী দিল্লিকে। কেন্দ্রীয় সংস্থা, দিল্লি পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে সিসি ক্যামেরা, ড্রোন থেকে শুরু করে যাবতীয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থা। দেশের বড়ো বড়ো মন্দির ও শহরগুলিকেও সতর্ক করা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)