নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: উদ্বোধনের আগেই রেলের ঘোষণা ছিল, দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে আঞ্চলিক খাবারের স্বাদ চেটেপুটে উপভোগ করতে পারবেন যাত্রীরা। অর্থাৎ, হাওড়া থেকে কামাখ্যাগামী বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের যাত্রীদের দেওয়া হবে সম্পূর্ণ বাঙালি খাবার। অন্যদিকে কামাখ্যা থেকে হাওড়াগামী ট্রেনের যাত্রীরা পাবেন অসমিয়া খাবারের স্বাদ। কিন্তু দেশের প্রথম শয়নযান বিশিষ্ট বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনে বাঙালি-অসমিয়া খাবারের প্রতিশ্রুতিই সার। কারণ হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ট্রেনে উঠে নিরামিষ খাবার খেতে বাধ্য হবেন সাধারণ রেল যাত্রীরা। হাওড়া-গুয়াহাটি প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিট বুকিংয়ে ‘নন ভেজ’ বিকল্প দেওয়াই হয়নি। প্রশ্ন উঠছে, বাঙালি এবং অসমিয়া খাবার কি শুধুমাত্রই নিরামিষ? আমিষ মেনুতে যাঁরা বাঙালি-অসমিয়া খাবার চাখতে চাইবেন ট্রেন সফরে, তাঁদের কেন বঞ্চিত করা হবে? তবে শুধুমাত্রই ‘নন ভেজ’ বিকল্প না থাকাই নয়। বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনে ‘নো ফুড’ অপশনও দেওয়া হচ্ছে না টিকিট বুকিংয়ের সময়। সঙ্গত কারণেই এবিষয়ে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এরই পাশাপাশি একে কেন্দ্র করে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তিও তুঙ্গে। রেল যাত্রীদের একাংশের দাবি, টিকিট বুকিং শুরু হওয়ার কিছু সময় পর্যন্ত ‘নো ফুড’ বিকল্প যেমন দেখানো হচ্ছিল। তেমনই গুয়াহাটি থেকে হাওড়াগামী ট্রেনে কিছু সময় ‘নন ভেজ’ অপশনও ছিল। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সামগ্রিক বিষয়ে প্রত্যাশিতভাবেই রেল বোর্ড কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে রেলমন্ত্রকের শীর্ষতম সূত্রে ‘বর্তমান’কে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, বন্দে ভারত স্লিপারের টিকিট মূল্যের সঙ্গেই খাবারের দাম অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু আলাদা করে কেটারিং চার্জের বিষয় নেই। তাই ‘নো ফুড’ অপশনও রাখা হয়নি। বন্দে ভারত স্লিপারের টিকিট কাটলেই সেই যাত্রীর জন্য খাবার তালিকাভুক্ত হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট যাত্রী ‘অন বোর্ড’ তা নাও নিতে পারেন। অন্যান্য প্রিমিয়াম ট্রেনে আলাদা করে কেটারিং চার্জ যুক্ত করা হয়। ফলে ‘নো ফুড’ বিকল্প বাছা অথবা না বাছার সঙ্গে রাজধানী, শতাব্দী, দুরন্ত এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনে টিকিটের দামেও তারতম্য ধরা পড়ে। প্রথম বন্দে ভারত স্লিপারে এব্যবস্থা রাখা হয়নি।অন্যদিকে ‘নন ভেজ’ বিকল্প না থাকা নিয়ে ‘বর্তমান’কে রেল সূত্র ব্যাখ্যা দিয়েছে, যেহেতু কামাখ্যা একটি ধর্মীয় স্থান, তাই শুধুমাত্রই নিরামিষ খাবার রাখা হয়েছে মেনুতে। এই একই যুক্তিতে অযোধ্যা কিংবা বৈষ্ণোদেবী কাটরাগামী ট্রেনে আমিষ খাবার পাওয়াই যায় না। উল্লেখ্য, আজ, বৃহস্পতিবার কামাখ্যা থেকে এবং কাল, সরস্বতী পুজোর দিন হাওড়া থেকে প্রথম যাত্রী পরিবহণ শুরু করছে শয়নযানবিশিষ্ট বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন। তার আগেই ট্রেনের খাবার সংক্রান্ত বিতর্কে অস্বস্তিতে কেন্দ্র।‘ভেজ’ ডিনারে বিতর্কবাঙালি মিলবাসন্তী পোলাও / ভেজ পোলাও / পিস পোলাওফুলকা (রুটি)ছানার ডালনা / লাবরা / ধোকার ডালনাআলু-ফুলকপি ভাজা / ঝুরি আলু ভাজা / আলু ভাজাভাজা মুগ ডাল / ছোলার ডাল / মিক্স ডালসন্দেশ / কালো জাম / রসগোল্লাঅসমীয়া মিলজোহা রাইস / জিরা পোলাওফুলকা (রুটি)মটর পনীর (অসমীয়া স্টাইলে) / লাবড়া / মিক্স ভেজিটেবলআলু-বিনস ভাজা / আলু-ঢেঁড়স ভাজা / আলু-পনীর (অসমীয়া স্টাইলে)মতি মোহর ডাল / মসুর ডাল / মুগ ডালনারকেল বরফি / লাল মোহন / রসগোল্লা