বামেদের দুর্গ ভেঙে দখল করা কুশমণ্ডি বিধানসভা ধরে রাখার পরীক্ষা তৃণমূলের
বর্তমান | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর:বাম দুর্গ ভেঙে দখল করা কুশমণ্ডি বিধানসভা ধরে রাখার বড় চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের সামনে। ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হলেও জেলার মধ্যে কুশমণ্ডি বিধানসভা তৃণমূলের দখলে আসে গতবার।কুশমণ্ডি বিধানসভায় রাজবংশী ভোট বড় ফ্যাক্টর। রাজবংশী অধ্যুষিত এই এলাকায় বাম আমলে সেভাবে উন্নয়ন হয়নি। কিন্তু তৃণমূলের আমলেও গত পাঁচ বছরে আমূল পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির। তাদের দাবি, আজও কুশমণ্ডি গ্রামীণ এলাকায় রাস্তা, পানীয় জলের সমস্যা রয়ে গিয়েছে। জেলার মধ্যে শুধুমাত্র কুশমণ্ডিতেই সরকারি বাসস্ট্যান্ড নেই। বাসস্ট্যান্ড করার প্রতিশ্রুতি বাস্তব রূপ পায়নি। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের তরফে কুশমণ্ডিতে কমিউনিটি হল হলেও সাধারণ মানুষের তাতে কোনও উপকার হয়নি বলে অভিযোগ।পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে কুশমণ্ডিতে ৪৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। ৪২ শতাংশ ভোট পায় প্রধান বিরোধী বিজেপি। বিধানসভায় প্রায় ১৩ হাজার ভোটে তৃণমূল জিতলেও গত লোকসভায় ব্যবধান কমে প্রায় পাঁচ হাজারে নেমে আসে। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে কুশমণ্ডি ২ গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপি দখল করেছিল। তার মধ্যে বিধায়ক রেখা রায়ের বাড়ি দেউল গ্রাম পঞ্চায়েত গেরুয়া শিবিরের দখলে যায়। পঞ্চায়েত সমিতিতেও ৯টি আসন দখল করেছিল বিজেপি।এর সঙ্গে তৃণমূলের মাথাব্যথা বাড়িয়েছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। তার জেরে সাংগঠনিক ভিত নড়বড়ে হয়ে উঠেছে বলে চর্চা শুরু হয়েছে দলের অন্দরে। অভ্যন্তরীণ বিবাদের জেরেই মালিগাঁও অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি ইস্তফা দেন। আরও কয়েকটি অঞ্চলে নেতৃত্ব ইস্তফা দিতে প্রস্তুতি নিলেও শেষ মুহূর্তে ড্যামেজ কন্ট্রোল করে জেলা নেতৃত্ব। জেলার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিজেপি গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দিলেই তৃণমূলের সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর হবে কুশমণ্ডী আসনে।জেলা বিজেপির সম্পাদক তাপস রায় বলেন, তৃণমূলের বিধায়ক রেখা রায়ের আমলে পাঁচ বছরে কোনও উন্নয়ন হয়নি। বাম আমল থেকে অনুন্নয়নের ধারায় বজায় আছে। বিধায়ক নিজের বাড়ির এলাকার পথশ্রী রাস্তা অর্ধেক করার পর পাত্তা নেই। চুরি, দুর্নীতিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শেষ। সাধারণ মানুষের না হওয়া কাজকে হাতিয়ার করেই বিধানসভায় লড়াই করব। গঙ্গারামপুরের ২/৩ বেলবাড়ি, জাহাঙ্গীরপুর ও শুকদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কুশমণ্ডি বিধানসভার অন্তর্গত হওয়ায় কিছুটা চিন্তায় রয়েছে নেতৃত্ব। জেলা তৃণমূল সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেন, আমাদের উপরে অভিযোগ নয় অভিমান থাকতে পারে। এসআইআরের প্রভাব পড়বে ভোট বাক্সে। অনেক উন্নয়ন হয়েছে এলাকায়। সব একবারে করা সম্ভব নয়। তবে, গঙ্গারামপুরের তিনটি অঞ্চল নিয়ে চিন্তায় রয়েছি। সেই এলাকায় বিশেষ নজর দেওয়া হবে।