• বকেয়া বেতনের দাবিতে অস্থায়ী কর্মীদের কর্মবিরতি মেডিকেলে,শিকেয় পরিষেবা, পরিস্থিতি সামলাতে আসরে কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ
    বর্তমান | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: বকেয়া বেতন দেওয়ার দাবিতে মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করলেন অস্থায়ী কর্মীরা। ফলে শিকেয় হাসপাতালের পরিষেবা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেডিকেলে ছুটলেন রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ ‘ডি’, হাউসকিপিং, নিরাপত্তারক্ষী ও জমাদার মিলিয়ে আন্দোলনকারীদের সংখ্যাটা প্রায় দু’শোর কাছাকাছি। এদের মধ্যে কেউ পাঁচ মাস মাইনে পাচ্ছেন না, অনেককে আবার বিনা নোটিসে ছাঁটাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কয়েকমাস ধরেই মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা বকেয়া বেতন মেটানো ও ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের পুনর্নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কখনও এমএসভিপির, আবার অধ্যক্ষের ঘরের বাইরে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। কিন্তু কোনও সমাধান সূত্র না মেলায় বুধবার সকাল থেকে অবস্থান বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি শুরু করেন ওই কর্মীরা। এর ফলে সকাল থেকেই পরিষেবা ব্যাহত হয়।মেডিকেলের অচলাবস্থা কাটাতে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন অধ্যক্ষ ডাঃ পার্থপ্রতিম মুখোপাধ্যায় এবং এমএসভিপি প্রসেনজিৎ বর। রোগী পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করে এমএসভিপি বলেন, কর্মীদের কী কী সমস্যা রয়েছে, লিখিত আকারে জমা দিতে বলা হয়েছে। আন্দোলরত কর্মী এবং যে বেসরকারি সংস্থা তাঁদের নিয়োগ করেছে, তাদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। কর্মীদের কাছে অনুরোধ, তাঁরা যেন অবিলম্বে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেন। কারণ এভাবে হাসপাতালে পরিষেবা বন্ধ রাখা যায় না। এর ফলে রোগী পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।এদিন দুপুরে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মেডিকেল কলেজে ছুটে যান রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য তথা ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। বলেন, হাসপাতাল পরিষেবা বন্ধ রেখে কিছু করা যাবে না। এটা ক্রিমিনাল অফেন্স। কাজে যোগ দিন। তারপর আমরা আলোচনা করে দেখছি।ইংলিশবাজারের বাসিন্দা টিঙ্কু কুমার দাস এদিন বৃদ্ধা মাকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে এসে চরম বিপাকে পড়েন। তিনি বলেন, কর্মীরা বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। রোগীকে ধরার মতো কেউ নেই। নিজেকেই বহু কষ্টে রোগী নিয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে হচ্ছে।এদিকে বকেয়া বেতন না মেটানো পর্যন্ত কর্মবিরতি ও অবস্থান বিক্ষোভ জারি থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনরত কর্মীরা। চুক্তিভিত্তিক কর্মী রূপা বিশ্বাস বলেন, মেডিকেল কলেজ হওয়ার আগে থেকে এখানে কাজ করছি। কোভিড মহামারির সময় প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছি। অথচ গত পাঁচ মাস আমাদের বেতন বকেয়া। কর্তৃপক্ষ যতক্ষণ না আমাদের দাবি মানবে, আন্দোলন চালিয়ে যাব।• নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)