বিধায়ককে পাওয়া যায় না, বিজেপি কার্যালয়ের সামনে ঢালা হল গোবর
বর্তমান | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, তুফানগঞ্জ: নাটাবাড়ির বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামী গত পাঁচ বছরে এলাকায় কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করেননি, এমন দাবি তুলে বুধবার অভিনব কায়দায় বিক্ষোভ দেখাল এলাকার মানুষ। এদিন নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মারুগঞ্জ বিজেপি অফিসের সামনে ট্রলি এনে গোবর ফেলা হয়। এরপর সেই গোবর বিজেপি কার্যালয়ে ছিটিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। মারুগঞ্জ শুভবুদ্ধি সম্পন্ন নাগরিকবৃন্দ নামে একটি ব্যানার বিজেপি পার্টি অফিসের সামনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। যদিও গোটা ঘটনাটি স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মদতেই হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে গেরুয়া শিবির। বিধানসভা ভোটের মুখে এই ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নাটাবাড়ি কেন্দ্রে জয়ী হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন মিহির গোস্বামী। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটের সময় উন্নয়নের একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এলাকার জন্য কোনও কাজ আজ পর্যন্ত এমএলএ করেননি। বিগত দিনে এলাকায় তাঁর দেখা মেলেনি। সাধারণ মানুষের খোঁজখবরও নেননি তিনি।মারুগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের তপনকুমার রায় বলেন, খবর পেয়ে এসে দেখি বিজেপি অফিসের সামনে গোবর ঢেলে ব্যানার লাগিয়ে বিক্ষোভ চলছে। বিধায়ক তো সুইচ অফ এমএলএ হিসেবে পরিচিত। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। যাঁকে উন্নয়নের আশায় সাধারণ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন সেই বিধায়ক পাঁচ বছরে কোনও উন্নয়ন করেননি এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াননি। তাই এলাকাবাসীর একত্রিত হয়ে এদিন তাঁদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।এ ব্যাপারে বিজেপির কোচবিহার জেলা সহ সভাপতি উজ্জ্বলকান্তি বসাক বলেন, তৃণমূলের মদতে যে নোংরামি একাংশ মারুগঞ্জবাসী আজ দেখলেন তা গণতন্ত্র বিরোধী। নিন্দার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। বিধায়ক কাজ করেছেন কি না তা সঠিক সময় হলেই মানুষ বিচার করবে। মারুগঞ্জবাসীর নামে তৃণমূল এই ঘটনা ঘটিয়েছে।অন্যদিকে, বিধায়ক মিহির গোস্বামী বলেন, দীর্ঘদিন থেকে মারুগঞ্জের কিছু তৃণমূলের পোষা গুন্ডা আমাদের দলীয় কর্মীদের উপর নানান ভাবে অত্যাচার করে আসছে। দলীয় অফিস খুলতে বারবার বাধা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের নামে তৃণমূল আজ এই জঘন্য কাজ করছে। জনগণের সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে। আমি কাজ করেছি কি করিনি, তা তৃণমূল বিচার করবে না। সাধারণ মানুষ বিচার করবে।যদিও বিজেপির তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক রাজেশ তন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে আমাদের দলের কোনও যোগ নেই। এটা পুরোটাই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। • বিজেপি কার্যালয়ের সামনে ঢালা হয়েছে গোবর। - নিজস্ব চিত্র।