• পারিবারিক অশান্তির জের  অমানবিক হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী সুতাহাটা ,শিশুকে শ্বাসরোধ করে খুন, উধাও দাদু-ঠাকুমা
    বর্তমান | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পারিবারিক অশান্তির জেরে দুগ্ধপোষ্য শিশুকন্যাকে শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগ উঠল সুতাহাটায়। প্রমাণ লোপাট করতে দেহটি শ্মশানে কবরও দিয়ে দেওয়া হয়। শেষমেষ মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রাতভর কবর আগলে পাহারা দেয়। বুধবার সকালে দেহটি তুলে তমলুক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত পিসিকে। আরও দুই অভিযুক্ত দাদু ও ঠাকুমা পলাতক।পুলিশ জানিয়েছে, রাজশ্রী প্রধান নামে ওই শিশুকন্যার বয়স মাত্র এক বছর আট মাস। সুতাহাটা থানার আমলাটে বাড়ি। মঙ্গলবার দুপুর একটা নাগাদ বাড়ি সংলগ্ন একটা জলাভূমিতে সংকটজনক অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় রাজশ্রীকে। তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় আমলাট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। সেখান থেকে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সন্ধ্যায় দেহটি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়। রাজশ্রীর মা মন্দিরা প্রধান রাতেই সন্তানকে খুনের অভিযোগ তুলে থানায় এফআইআর করেন। অভিযুক্ত করেন শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদকে। অভিযোগ পাওয়ার পরই শ্মশানে পুলিশ যায়। সারারাত কবর ঘিরে রাখে তারা। এদিন সকালে দেহ তুলে তমলুক মেডিকেলে ময়নাতদন্ত করা হয়। ধৃত পিসির নাম টুম্পা লাটুয়া। তাকে হলদিয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক সাতদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। ঘটনার পরই পালিয়ে গিয়েছে দাদু ঠাকুমা।হলদিয়ার মহকুমা শাসক তীর্থঙ্কর বিশ্বাস বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে আমরা ওই শিশুকন্যাকে মাটিতে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগ পাই। রাতে দেহ তোলা যায় না। তাই পুলিশ এলাকাটি কর্ডন করে রেখেছিল। সকালে দেহটি কবর থেকে তোলা হয়।’ সুতাহাটার বিডিও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে শ্মশানে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।হলদিয়া পুরসভার অধীনে আমলাট। সেখানে সুতাহাটা বিডিও অফিস অবস্থিত। ওই অফিসের বিপরীতে রমেশ প্রধানের বাড়ি। তিনি পেশায় ফুচকা বিক্রেতা। বাড়িতে স্ত্রী মন্দিরা ও ২০ মাসের কন্যাসন্তান ছিল। এক মাস আগে পারিবারিক অশান্তির জেরে বাবা-মায়ের সঙ্গে আলাদা থাকতে শুরু করেন রমেশ ও তাঁর স্ত্রী। সেই রোষে একরত্তি রাজশ্রীকে প্রাণ দিতে হল বলে মন্দিরা পুলিশকে জানিয়েছেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মন্দিরা। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলছিলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে আমার স্বামী বাড়ির বাইরে ছিলেন। বেলা ১২টা নাগাদ আমি রান্না করছিলাম। পাশেই আমার মেয়ে ছিল। আইসিডিএস সেন্টার থেকে আনা ডিম খেতে দিয়েছিলাম। তারপর রাস্তার দিকে বেরিয়ে যায়। আমি রান্নার ফাঁকে বেরিয়ে দেখি, মেয়ে নেই। রাস্তাঘাটে খোঁজাখুঁজি করে কোথাও পাইনি। কিছুটা দূরে গিয়ে দেখি, একটা জলা জায়গায় কাদামাটির উপর মেয়ে উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছে। মাটি থেকে তুলতেই গোঙানির আওয়াজ পাই। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু বাঁচাতে পারলাম না। আমাদের ধারণা, শ্বশুর শাশুড়ির থেকে আলাদা হওয়ার রাগ থেকেই মেয়েকে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় ননদও জড়িত।’ রাজশ্রীর মেসো পবিত্র ঘড়া বলেন, ‘পারিবারিক অশান্তির কারণে এক মাস আগে রমেশ ও মন্দিরা আলাদা থাকতে শুরু করে। সে কারণে রেষারেষি আরও বেড়ে গিয়েছিল। সেই রাগে শিশুটিকে খুন করা হয়েছে বলে অনুমান। তা ছাড়া হাসপাতাল থেকে শিশুটির দেহ এনে যেভাবে তড়িঘড়ি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে পুঁতে দেওয়া হয়েছে, তাতে সন্দেহ আরও বেড়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’  মৃত শিশুকন্যার শোকার্ত মা।
  • Link to this news (বর্তমান)