সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর চাঙ্গা তৃণমূল,শুনানির সময় পাশে থাকার কৌশল ঘাসফুল শিবিরের
বর্তমান | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: এসআইআর শুনানিতে ভোটাররা বুথ লেভেল এজেন্টের পাশাপাশি যে কাউকেই ‘অথরাইজড পার্সন’ করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে হাতিয়ার করেই এসআইআর প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে বুথ স্তরে সংগঠন শক্ত করার রণকৌশল নিল কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটারদের হয়রানি থেকে রেহাই দিতে এবার বাড়ি বাড়ি পৌঁছনোর পরিকল্পনা করেছে ঘাসফুল শিবির। সম্প্রতি জেলা ও ব্লক স্তরের নেতৃত্বদের নিয়ে হওয়া এক ভার্চুয়াল বৈঠকেই এই কৌশল চূড়ান্ত হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর ঘিরে যে আতঙ্ক ও ভোগান্তির অভিযোগ উঠছে, সেটিকেই জনসংযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়া ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে যাবেন দলের নীচুতলার নেতাকর্মীরা। উদ্দেশ্য একটাই— যত বেশি সংখ্যক ভোটারের হয়ে ‘অথরাইজড পার্সন’ হিসেবে শুনানিতে উপস্থিত থাকা যায়। যাতে সাধারণ মানুষকে বারবার বিডিও অফিসে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে না হয়।উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বুথ লেভেল এজেন্ট ছাড়াও ভোটাররা তাঁদের হয়ে যে কোনও ব্যক্তিকে শুনানির জন্য অথরাইজ করতে পারেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সন্দেহভাজন ভোটারদের তালিকা পঞ্চায়েত ও ব্লক স্তরে প্রকাশ্যে টাঙানো হচ্ছে। এই দুই নির্দেশকেই সাংগঠনিকভাবে কাজে লাগাতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস।দল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি বুথে যত বেশি সম্ভব নেতাকর্মীকে অথরাইজড পার্সন হিসেবে প্রস্তুত রাখা হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বয়স্ক, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের ক্ষেত্রে। তাঁদের বাড়ি থেকেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে অথরাইজেশন নিয়ে তৃণমূল কর্মীরাই শুনানিতে হাজির থাকবেন।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই কৌশলে তৃণমূলের দু’ রকম লাভ হতে পারে। একদিকে বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা অনেকটাই রোখা যাবে, অন্যদিকে ‘ভোটারের পাশে তৃণমূল’— এই রাজনৈতিক বার্তাও জোরালোভাবে মানুষের কাছে পৌঁছবে।বর্তমানে নদীয়া উত্তরে আনম্যাপড ভোটারদের শুনানি প্রায় শেষ হলেও, সন্দেহভাজন ভোটারদের শুনানির চাপ এখনো বিপুল। প্রতি বুথে গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ জন ভোটার এসআইআর সংক্রান্ত নোটিস পেয়েছেন। প্রতিদিন বিডিও অফিসে ভিড় ও দীর্ঘ অপেক্ষায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতেই বুথ স্তরে বাড়ি বাড়ি পৌঁছনোর এই রণকৌশল।দলের এক শীর্ষ নেতা জানান, সন্দেহভাজন ভোটারদের তালিকা প্রকাশ্যে টাঙানো হলে আগাম বোঝা যাবে কারা নোটিস পেয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে কমিশন নির্ধারিত নথিপত্র ঠিকঠাক করতে সাহায্য করা হবে। প্রয়োজনে অসুস্থ বা বয়স্ক ভোটারদের থেকে অথরাইজেশন লেটার নিয়ে তাঁদের হয়ে শুনানিতে যাওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলায় ৮টি আসনের মধ্যে ৭টিতেই জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সম্প্রতি চাপড়ার এক রোড-শোয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘৮-০’ করার ডাক দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই লক্ষ্য পূরণ করতেই এবার এসআইআর প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে বুথ স্তরে সংগঠন আরও মজবুত করার পথে হাঁটছে ঘাসফুল শিবির।