নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দিলেন খোদ আরামবাগের মহকুমা শাসকই। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির জন্য তাঁকে নির্বাচন কমিশনের শুনানির মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত মঙ্গলবার শুনানি হয়েছে আরামবাগে এসডিও অফিসেই। মহকুমা শাসক বলেন, এসআইআরের হিয়ারিংয়ের নোটিস এসেছিল। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী শুনানি হয়েছে।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগের মহকুমা শাসক রবি কুমার আদতে রাজস্থানের বাসিন্দা। আইএএস হয়ে বর্তমানে তিনি আরামবাগে কর্মরত রয়েছেন। তিনি আরামবাগের ভোটারও হয়েছেন। রাজ্যে এসআইআর চলছে বলে তাঁকেও ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করতে হয়েছে। তারপরই অবশ্য এসআইআর পর্বে তাঁর নামে নোটিস জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। জানা গিয়েছে, ২০০২-এর ভোটার তালিকায় মহকুমা শাসকের বাবার নামের পদবি সংক্রান্ত অসংগতি পায় কমিশন। তার জেরেই বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে কমিশন নোটিস পাঠায়। মহকুমা শাসক শুনানিতে কমিশনকে পাসপোর্ট সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি জমা করেছেন। মহকুমা শাসক জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট নিয়মে শুনানির নোটিস এসেছে। মুখোমুখি হয়ে প্রয়োজনীয় নথি দিয়েছি। এই ঘটনায় সমস্যার কিছু নেই।উল্লেখ্য, তথ্যগত অসংতির জন্য রাজ্যজুড়ে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে লক্ষ লক্ষ ভোটারকে শুনানির নোটিস পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এসআইআর-এর কাজ পরিচালনা করছেন এমন আধিকারিকদেরও শুনানির মুখে পড়তে হচ্ছে। একাধিক বিএলও নোটিস পেয়ে হাজিরা দিয়েছেন। আরামবাগের মহকুমা শাসক নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ পরিচালনা করছেন। একইসঙ্গে তিনি আরামবাগ বিধানসভার ইলেকশন রোল অবজার্ভারও রয়েছেন। তারসঙ্গে তিনি নিজেও এসআইআর-এর শুনানি করছেন ভোটারদের। তাঁর নিজের শুনানি হওয়ায় শুরু হয়েছে চর্চা।শুনানির নোটিস নিয়ে কার্যত নাজেহাল অবস্থা ভোটারদেরও। প্রতিদিন কয়েক হাজার ভোটার আসছেন বিডিও অফিসগুলিতে। এদিন আরামবাগ বিডিও অফিসে ভোটারদের লাইনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তার জেরে চারজন মহিলা ভোটার অসুস্থ হয়ে পড়েন। পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে উদ্ধার করে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশ পরে লাইনেও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর হয়। এসআইআর শুনানি নিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে ভোটারদের একাংশও।এদিন শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে আরামবাগের শ্যামগ্রাম, বাকরচক প্রভৃতি এলাকার কয়েকজন ভোটার অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। অসুস্থ এক ভোটারের পরিবারের সদস্য সাগির হোসেন বলেন, এদিন আমাদের শুনানির দিন ছিল। লম্বা লাইন হয়। লাইন ঠিকঠাক ছিল না। সকাল ১০টা থেকে আমরা বিডিও অফিসে হাজির হই। অতিরিক্ত লোকের চাপ তারসঙ্গে গরম লাগছিল বলে আমার শ্যালিকা অসুস্থ বোধ করতে থাকে। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তাই তাঁকে নিয়ে হাসপাতালে আসতে হয়। শ্যামগ্রামের বাসিন্দা শেখ সাবির আলি বলেন, সকাল ৯টায় আমরা বিডিও অফিসে এসেছি। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। আরামবাগের বিডিও সুব্রত মল্লিক বলেন, অসুস্থ একজনের শুনানি করলাম। বাকিদেরও খোঁজ নিচ্ছি। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিদিনই কয়েক হাজার ভোটার আসছেন। সুষ্ঠুভাবে ভোটারদের লাইন দিতে হবে। বিষয়টি পুলিশ দেখছে। আরামবাগে শুনানির লাইনে বিশৃঙ্খলা। বুধবার তোলা নিজস্ব চিত্র