নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: হাতে লাল পানীয়ের গ্লাস। এক মনে কম্পিউটারে তাস খেলে চলেছেন সেচ দপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ার। সেচ দপ্তরের তমলুক ডিভিশনের এক ইঞ্জিনিয়ারের এমনই এক ভিডিও সম্প্রতি সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার মোবাইলে পাঠানোর ঘটনায় তুলকালাম ওই অফিসে। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই অফিসেই দফাদার (লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক) দেবব্রত দে-র উপর শাস্তির খাঁড়া নেমে এসেছে। এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবব্রত সরকার তাঁকে কাজ থেকে বসিয়ে দিয়েছেন। গোটা বিষয়টি নিয়ে অফিসের অন্দরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বুধবার এই খবর রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানসবাবুর নজরে আসার পর তিনি এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে ফোন করে অবিলম্বে ওই কর্মীর উপর শাস্তির খাঁড়া প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। এনিয়ে সেচ দপ্তরের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, অফিসের কর্মীকে এভাবে শাস্তির মুখে ফেলা যাবে না। বুধবার আমি তমলুক ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে ফোন করে ওই কর্মীকে আগের মতোই কাজে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছি।তমলুক শহরের আবাসবাড়িতে অবস্থিত সেচ দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের অফিস। অফিস লাগোয়া ড্রাইভারদের একটি বড় একতলা ভবন রয়েছে। সেই ভবনের একটা অংশ নিজের কোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহার করেন ওই ইঞ্জিনিয়ার। সেখানে রাত্রিবাসও করেন। সম্প্রতি ওই কোয়ার্টারে ওই ইঞ্জিনিয়ার থাকাকালীন তাঁর একটি ভিডিও তুলে মানস ভুঁইয়ার কাছে পাঠানো হয়। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ওই ইঞ্জিনিয়ারের হাতে লাল পানীয়ের গ্লাস। আর আপন মনে কম্পিউটারে তাস খেলতে ব্যস্ত তিনি। এই ভিডিও পাওয়ার পরই সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া ওই ইঞ্জিনিয়ারকে ফোন করে সতর্ক করেন। এধরনের ভিডিও বাইরে বেরলে দপ্তরের বদনাম হয়ে যাবে বলেও তাঁকে সতর্ক করে দেন মন্ত্রী। জানা গিয়েছে, মন্ত্রীর কাছে এমন ভিডিও কে পাঠালেন তা নিয়ে অন্তর্তদন্ত শুরু করেন ওই ইঞ্জিনিয়ার। তারপর তিনি ঘটনার জন্য নিজের অফিসের কর্মী (দফাদার) দেবব্রত দে-কেই সন্দেহ করেন। ঘটনাচক্রে দেবব্রত দে তৃণমূল সমর্থিত সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের সেচ শাখার রাজ্য কমিটির সদস্য। তিনিই একমাত্র পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মধ্যে সংগঠনের রাজ্য কমিটির সদস্য। ওই ইঞ্জিনিয়ার দেবব্রতবাবুকে নিজের অফিসে ডেকে ঘটনার জন্য অভিযুক্ত করে তাঁকে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে দেন। তারপর ওই দফাদার অফিসে এলেও কোনও কাজ করতে পারছেন না। বসে বসে বাড়ি চলে যাচ্ছেন।সেচ দপ্তরের তমলুক ডিভিশনের অফিসে এই ঘটনা নিয়ে চাপানউতোর চলছেই। বুধবার এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবব্রত সরকার বলেন, অফিসও একটা পরিবারের মতোই। সেখানে কোথাও সমস্যা হলে ব্যবস্থা নিতে হয়। এর বাইরে কিছু বলব না। এদিকে, শাস্তির কোপে পড়া দেবব্রত দে বলেন, আমি ২২ বছর ধরে সেচ দপ্তরে চাকরি করছি। কখনও কারও সঙ্গে সংঘাত লাগেনি। ওই ভিডিও তোলা এবং মন্ত্রীকে পাঠানোর সঙ্গে আমার বিন্দুবিসর্গ যোগ নেই। অথচ, এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার আমাকে টার্গেট করে কাজ থেকে বসিয়ে দিলেন। যে কারণে অফিসে গেলেও চুপ করে বসে থাকা ছাড়া আর কোনও কাজ নেই। এই ঘটনা আমাকে ব্যথিত করেছে। মেদিনীপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করে বেরিয়ে আসছেন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া।-নিজস্ব চিত্র