• ৯ বছরেও বর্জ্য নিষ্কাশনের পরিকাঠামো তৈরি হল না!,বিশ্বভারতী ও জেলা প্রশাসনকে তীব্র ভর্ৎসনা জাতীয় পরিবেশ আদালতের
    বর্তমান | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, বোলপুর: ন’বছর কেটে গেলেও কেন বর্জ্য নিষ্কাশনের পরিকাঠামো তৈরি হল না? কেন বারবার সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও হুঁশ ফিরছে না বিশ্বভারতীর? জেলা প্রশাসনই বা কী করছে? শান্তিনিকেতনের দূষণ সংক্রান্ত একটি মামলায় বুধবার এভাবেই জাতীয় পরিবেশ আদালতের(এনজিটি) তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও বীরভূম জেলা প্রশাসন। এমনকী ক্ষোভের বশে আদালত এমন মন্তব্যও করেছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এই কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া উচিত অথবা দিল্লিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত। দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের এমন টালবাহানাকে ‘লজ্জাজনক’ বলেও আখ্যা দিয়েছে আদালত।২০১৬সাল থেকে ঝুলে থাকা কঠিন ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশন সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এদিন ভার্চুয়ালি হাজির ছিলেন বিশ্বভারতীর কর্মসচিব বিকাশ মুখোপাধ্যায় এবং জেলাশাসক ধবল জৈন। সূত্রের খবর, পরিকাঠামো গড়ে তুলতে এত বিলম্ব কেন, তা নিয়ে দু’পক্ষকেই কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড় করান বিচারক। আদালতের কড়া প্রশ্ন, আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে? এভাবে তো চলতে পারে না। এর পর কি আমাদের মুখ্যসচিব বা মন্ত্রীদের এক এক করে তলব করতে হবে? আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না করলে আদালত কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা ও সংলগ্ন এলাকার দূষণ নিয়ে মামলা করেছিলেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। তাঁর করা মামলার প্রেক্ষিতেই গত কয়েক বছর ধরে দফায় দফায় নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ আদালত। ২০২০সালে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, কঠিন ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশনে বিশ্বভারতীকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। এরপর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলা হয়, ২০২৪সালের মধ্যে সমস্ত কাজ শেষ করতে হবে। ২০২৫ সালের ৩১জানুয়ারির মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কিন্তু অভিযোগ, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট জমা না পড়ায় আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা শুরু করে। গত অক্টোবর মাসেও আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের ৩১ডিসেম্বরের মধ্যে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ বা এটিআর জমা দিতে হবে। কিন্তু গত ডিসেম্বরের শুনানিতেও দেখা যায়, পরিস্থিতির কোনও বদল হয়নি।পৌষমেলার আগে গত ২২ডিসেম্বর মামলার শুনানিতে জাতীয় পরিবেশ আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও বীরভূম জেলা প্রশাসন। পরবর্তী শুনানিতে বীরভূমের জেলাশাসক ও বিশ্বভারতীর রেজিস্টারকে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেয় আদালত। এদিনের শুনানিতে তাঁরা হাজির হলে চূড়ান্ত ভর্ৎসনার মুখে পড়েন। ৩১ মার্চ পরবর্তী শুনানি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।মামলাকারী সুভাষ দত্ত এদিন বলেন, আদালত চূড়ান্ত ভর্ৎসনা করেছে। ন’বছরেও কেন একটা পরিকাঠামো তৈরি করা গেল না তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিচারকরা। এটা শুধু রাজ্যবাসীর ব্যর্থতা নয়, বিশ্বভারতীর অকর্মণ্যতা আজ গোটা দেশের কাছে লজ্জার। জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, আদালতের নির্দেশ মেনেই পরবর্তী আলোচনা ও পদক্ষেপ করা হবে। বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানান, বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
  • Link to this news (বর্তমান)