• জঙ্গিপুরে পুরনো বোর্ডকেই ক্ষমতায় ফেরাল হাই কোর্ট
    বর্তমান | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: জঙ্গিপুর পুরসভার আগের বোর্ডই মান্যতা পেল কলকাতা হাইকোর্টে। বুধবার দুপুরে এই রায় ঘোষিত হওয়ার পরই উচ্ছাসে ফেটে পড়ে চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলামের অনুগামীরা। মফিজুল ইসলাম পুনরায় চেয়ারম্যানের পদে বসছেন জেনে খুশিতে মিষ্টি বিতরণ করেন অনুগামীরা। দুপুর থেকেই অনুগামীরা মফিজুল ইসলামের দলীয় কার্যালয়ে ভিড় জমান। নাগরিক পরিষেবা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও জমা পড়ে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মাস খানেক আগেই পুর বোর্ড ভেঙে দেয় নগরোন্নয়ন দপ্তর। তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেন পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মাইসুরা বেগম। এদিন সেই মামলার রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট।এ প্রসঙ্গে জঙ্গিপুরের মহকুমা শাসক তথা বর্তমান প্রশাসক সুধীরকুমার রেড্ডি বলেন, পুরসভা নিয়ে হাইকোর্টের রায় কানে এসেছে, তবে এ নিয়ে কোনো নোটিস হাতে পাইনি। অর্ডার পেয়ে দেখে মন্তব্য করব।মফিজুল ইসলাম বলেন, সত্যের জয় হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়। কলকাতা হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে তা মেনে চলব। শহরবাসী আরও ভালো পরিষেবা পাবে, কেউ কাজে বাধার সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।অভিযোগ ওঠে, নাগরিক পরিষেবা দিতে ব্যর্থ জঙ্গিপুর পুরসভা। আবর্জনা সাফাই থেকে শহরের রাস্তাঘাটের হাল, সবেতেই ডাহা ফেল। এমনকী শহরবাসীকে পরিস্রুত পানীয় জল দিতেও ব্যর্থ। এমনই অভিযোগ তুলে নগরোন্নয়ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন শহরবাসী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় মাস দু›য়েক আগেই জঙ্গিপুর পুরসভাকে শোকজ করে নগরোন্নয়ন দপ্তর। এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত অভিযোগের সদুত্তর দিতে বলা হয়। যথা সময়ে শোকজের উত্তরও দেয় জঙ্গিপুর পুরসভা। কিন্তু পুরসভার উত্তরে সন্তুষ্ট হয়নি নগরোন্নয়ন দপ্তর। মাস খানেক আগেই জঙ্গিপুর পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়। প্রশাসক হিসেবে মহকুমাশাসককে বসানো হয়। পুরকর্মীদের ওয়ার্ড ভিত্তিক কো অর্ডিনেটর নিয়োগ করে প্রশাসক। যদিও তারপর থেকে নানা পরিষেবা পেতে সাধারণ মানুষকে হয়রান হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। এদিনই পরিষেবা না পেয়ে পুরসভায় ঝামেলা করে সাধারণ মানুষ। ভাইস চেয়ারম্যান সন্তোষ চৌধুরী বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই পুরসভা পরিচালনা করেছি, শহরের উন্নয়ন করেছি। দু›-একজন ব্যক্তিগত স্বার্থে পুরবোর্ডের নামে মিথ্যা অভিযোগ করে। আগামী দিনে পুরসভায় ২২ কোটি টাকা কাজ হবে।প্রসঙ্গত, প্রায় বছর খানেক আগে থেকে শহরের উন্নয়ন নিয়ে জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন ও চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলামের সঙ্গে দ্বৈরথ শুরু হয়। পুরসভার দুর্নীতি নিয়ে বহুবার সরব হন বিধায়ক। তারপর থেকেই বিধায়ক ও চেয়ারম্যানের অনুগামীদের মধ্যে রেষারেষি শুরু। যার পরিণামে বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।
  • Link to this news (বর্তমান)