• ‘বঙ্কিমদাস’, ‘রবীন্দ্রনাথ সানিয়াল’, ‘নেতাজি সুভাষ প্যালেস’, মনীষীদের নাম ও উচ্চারণে বিপত্তি, দিল্লির নেতাদের জন্য ‘গৃহশিক্ষক’ বঙ্গ বিজেপিতে
    বর্তমান | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ‘বঙ্কিমদা’! ভরা লোকসভায় দাঁড়িয়ে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে অন্তত চারবার ‘দাদা’ বলে ডেকেছেন স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মাস্টারদা সূর্য সেন তাঁর কাছে শুধুই ‘মাস্টার’। আর বিপ্লবী পুলিনবিহারী দাসকে বানিয়েছেন ‘পুলিনবিকাশ দাস’। তাঁর সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত তো আরও এককাঠি সরেস! লোকসভায় ‘বন্দেমাতরম’ রচয়িতার নাম উচ্চারণে বারকয়েক ঠোক্কর খেয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত থেমেছেন ‘বঙ্কিমদাস চ্যাটার্জি’তে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও পিছিয়ে নেই। সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর মুখে কবিগুরু হয়েছেন ‘রবীন্দ্রনাথ সানিয়াল’। সুভাষচন্দ্র বসুকে অবলীলায় ‘নেতাজি সুভাষ প্যালেস’ বলেছেন দিল্লির ‘গেরুয়া’ মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। বাংলার বরেণ্য মনীষীদের নাম ও তার উচ্চারণে বারবার হোঁচট খেয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। এতে শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ট্রোল’ নয়, শিক্ষিত বাঙালিদের মধ্যেও গেরুয়া শিবির সম্পর্কে তৈরি হয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। অবশেষে তা নিয়ে ‘বোধোদয়’ হল রাজ্য নেতৃত্বের। আসন্ন ভোটের প্রচারে এহেন বিপত্তি এড়াতে কেন্দ্রীয় নেতাদের জন্য বঙ্গ বিজেপি নিয়োগ করছে ‘গৃহশিক্ষক’! রাজ্যের দুই নেতা রীতিমতো ‘হোমটাস্ক’ দিয়ে দিল্লির বক্তাদের মনীষীদের নাম উচ্চারণ শেখাবেন। কোন জেলায় কোন মনীষীর জন্ম, বা কোন জেলা কী জন্য বিখ্যাত— সেই তালিকাও তাঁরা পাঠাচ্ছেন রাজধানীতে।বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলার সংস্কৃতি-ঐতিহ্য না বুঝে মঞ্চে ভাষণ দিতে ওঠেন ভিনরাজ্যের নেতারা। তাতে যা হওয়ার সেটাই হয়। কখনো তাঁরা মনীষীদের পদবি ভুল বলেন। কখনো আবার তাঁরা কেন বিখ্যাত, তার ভুল ব্যাখ্যা করেন। মোদি-অমিত শাহ থেকে দিল্লির প্রথম সারির প্রায় সব নেতা সেই তালিকায়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য তো মোহন বাগান-ইস্ট বেঙ্গলকে ‘মোহন বেগুন-ইস্ট বেগুন’ ডেকে লেজে-গোবরে হয়েছেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচন বিজেপির কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি আর চাইছেন না দিল্লির নেতারা। তাই শুধু সঠিক উচ্চারণ নয়, কোন জেলায় কোন মন্দির রয়েছে সেটাও ওই দুই ‘গৃহশিক্ষক’ নেতাকে পাঠাতে বলা হয়েছে।এপ্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্যস্তরের এক নেতা বলেন, ‘আগেও তাঁদের রাজ্য সম্পর্কে ব্রিফ করা হত। তারপরও ভুল করতেন। এবার বাংলা নিয়ে ভালোভাবে হোমটাস্ক করেই তাঁরা মঞ্চ কাঁপাবেন।’ দলের তরফে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য জেলার নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেমন— কোন জেলায় কেমন উন্নয়ন হয়েছে, কী কী কাজ করা দরকার ছিল ইত্যাদি। প্রয়োজনে একাধিকবার এলাকা ঘুরে তথ্য জোগাড় করার জন্য বলা হয়েছে। বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, ‘দল বিভিন্ন সময়ে নানা তথ্য সংগ্রহ করে। এটা নতুন কিছু নয়।’
  • Link to this news (বর্তমান)