ডোমজুড় কেন্দ্রে নিষ্ক্রিয় কর্মীদের মূল স্রোতে ফেরাতে তৎপরতা তৃণমূলের, ভালো সাড়া মিলছে আহ্বানে, দাবি দলীয় নেতৃত্বের
বর্তমান | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: এক সময় দলের একনিষ্ঠ সৈনিক হলেও নানা কারণে দলের কাজ থেকে দূরে সরে গিয়েছেন অনেকে। কেউ ব্যক্তিগত মান-অভিমান বাড়িয়ে দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন, কেউ রাজনৈতিক বা পারিবারিক কারণে পিছিয়ে গিয়েছিলেন। সেইসব পুরোনো কর্মীদের ফের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে ময়দানে নেমেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ডোমজুড় বিধানসভা এলাকার নেতৃত্ব পুরোনো কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করছেন এবং তাঁদের দলের মূল স্রোতে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন।বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ নিজেও বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের পাঁচালি তুলে ধরছেন। তিনি পুরোনো কর্মীদের বলছেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় লড়াইয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ১৫টি অঞ্চলের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১০টি অঞ্চলে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ জন পুরোনো কর্মী আবার মাঠে নামার আশ্বাস দিয়েছেন। এর মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন দলের কাজ থেকে দূরে ছিলেন। রবিবার চকপাড়ায় পূর্ণিমা আইচের বাড়িতে গিয়েছিলেন বিধায়ক। তৃণমূলের প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তবে নানা কারণে অভিমান হওয়ায় পূর্ণিমাদেবী দল থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। বিধায়কের সঙ্গে কথা হওয়ার পর তিনি বলেন, ‘দলের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছিল ঠিকই। কিন্তু বিধায়ক এসে প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর পর আমি ফের দিদির জন্য লড়তে রাজি।’ব্লক সভাপতি তাপস মাইতিও নিয়মিত অঞ্চলে ঘুরছেন, পুরোনো কর্মীদের ফেরানোর কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘স্বপন নাগ, মুকুন্দ নস্করের মতো বহু পুরোনো কর্মী আমাদের সংগঠনের বড়ো সম্পদ। নির্বাচনি লড়াইয়ে তাঁদের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই স্বতঃস্ফূর্ত আহ্বানে কর্মীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ অনেকটাই মিটে যাবে। এর ফলে ভোটের আগে শাসকদলের ভিত নিঃসন্দেহে আরও দৃঢ় হবে। জনসংযোগের পাশাপাশি ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচিতে উঠে আসা নানা দাবির ভিত্তিতে উন্নয়নের কাজ চলছে জোরকদমে। বিশেষ করে পানীয় জল, বেহাল নিকাশি ও রাস্তাঘাট সংস্কারের উপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।