• বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকার সুযোগে ফ্ল্যাট থেকে ৬৫ লক্ষের গয়না চুরি, মেটিয়াবুরুজের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২, উদ্ধার গয়না
    বর্তমান | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিদ্যুতের বিল বকেয়া। তার জেরেই ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছে সিইএসসি। সেই সুযোগে ‘মাস্টার’ চাবি দিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা খোলে দুষ্কৃতীরা। ফাঁকা ফ্ল্যাট থেকে ৬৫ লক্ষ টাকার গয়না হাতিয়ে চম্পট দেয় তারা। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে দু’জনকে গ্রেপ্তার করল মেটিয়াবুরুজ থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম শাহবাজ আলি ও সাহিল আহমেদ। খোয়া যাওয়া সমস্ত গয়না উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। একটি গোলাপি রঙের সুটকেসে ভরে সেই গয়না ভিন রাজ্যে পাচারের চেষ্টা করছিল অভিযুক্তরা। প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে গাড়ি সহ দুষ্কৃতীদের পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা।একবালপুর থানা এলাকার ভূকৈলাস রোডের বাসিন্দা নাজরা বেগম (৩৩)। গৃহকর্ত্রীর আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে মেটিয়াবুরুজ থানা এলাকার পাহাড়পুর রোডে। সেখানে কেউ থাকেন না। কিন্তু, ওই ফ্ল্যাটের আলমারিতে প্রচুর গয়না রেখেছিলেন গৃহকর্ত্রী। বাড়িতে কেউ থাকেন, তা বোঝানোর জন্য ড্রইংরুমের আলো জ্বালানোই থাকত। কিন্তু, দীর্ঘদিন সেই ফ্ল্যাটে যাওয়া-আসা ছিল না নাজরার। তাই জমা পড়েনি বিদ্যুতের বিল। তার জেরেই ১৬ ডিসেম্বর ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয় সিইএসসি। মোবাইলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা তাঁকে জানায় সিইএসসি। ১৮ ডিসেম্বর তিনি বকেয়া বিল শোধ করেন। ১৯ তারিখ বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে সিইএসসি। সেই মেসেজও মোবাইলে আসে।পরের দিন পাহাড়পুরের ফ্ল্যাটে যান নাজরা। সেখানে যেতেই চক্ষু চড়কগাছ তাঁর। ফ্ল্যাটের দরজা খোলা। গোটা ঘর লণ্ডভণ্ড। আলমারির দরজা ভাঙা। লকারের ভিতর থেকে উধাও হিরে-সোনা-রুপোর সব গয়না। যার বাজার মূল্য প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। মেটিয়াবুরুজ থানার দ্বারস্থ হন তিনি। ফ্ল্যাটের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে পুলিশ। কিন্তু, তাদের কল ডিটেলস রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কারণ, দুই দুষ্কৃতী হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছিল। শুধু তাই নয়, ভিন রাজ্যে পালানোর জন্য পাঁচবার গাড়ি বদল করেছিল তারা। কিন্তু, তাতেও লাভ হয়নি। পুলিশের হাতে ধরা পড়ে অভিযুক্তরা।ধৃতদের জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। শাহবাজ আলি ও সাহিল আহমেদ পুলিশকে জানিয়েছে, দেড় মাস ধরে পাহাড়পুরের ওই ফ্ল্যাটের উপর নজর রেখেছিল তারা। বাড়িতে আলো জ্বালানো যে শুধুমাত্র নিরাপত্তার স্বার্থে, তা আগে থেকেই জানত অভিযুক্তরা। সেখানে যে কেউ থাকে না, তাও ধৃতদের জানা। আচমকাই আলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছে দুষ্কৃতীরা। সেই জন্যই তৈরি করা হয়েছিল ‘মাস্টার কি’। সেই চাবিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রমাণ হিসেবে যা পেশ করা হবে আদালতে।
  • Link to this news (বর্তমান)