নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে মাইলস্টোন তৈরি করল অশোকনগর পুরসভা পরিচালিত প্রজ্ঞানন্দ সরস্বতী সেবাসদন হাসপাতাল। মঙ্গলবার পুর হাসপাতালে প্রথম লেজার প্রযুক্তিতে অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হল। একদিকে ছিল রোগীর বয়সজনিত ঝুঁকি, অন্যদিকে এই ধরনের অস্ত্রোপচার এই হাসপাতালে প্রথম। সব মিলিয়ে বিষয়টি ছিল চিকিৎসকদের কাছে এক বড়ো চ্যালেঞ্জ। সমস্ত বাধা অতিক্রম করে সফলভাবেই হয়েছে এই অস্ত্রোপচার।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০ জানুয়ারি সেবাসদন হাসপাতালে ভর্তি হন শুভ্রা ঘোষ (৫৪)। তাঁর বাড়ি অশোকনগর পুরসভা এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে পাইলসের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। প্রয়োজন হয় অস্ত্রোপচারের। কিন্তু রোগীর বয়স এবং শারীরিক অবস্থার কারণে চিকিৎসকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় লেজার অপারেশনের। কিন্তু লেজার-যন্ত্র আনা হবে কোথা থেকে? চিন্তায় পড়ে কর্তৃপক্ষ। অপারেশনের দায়িত্ব নেন অভিজ্ঞ সার্জন ডাঃ প্রীতিশ রায়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই হাসপাতালে কর্মরত। তিনি নিজের লেজার-মেশিন নিয়ে আসেন। সোমবার সফলভাবেই সম্পন্ন হয় এই অপারেশন। অশোকনগর পুর হাসপাতালের ইতিহাসে এই ধরনের অস্ত্রোপচার এই প্রথম। ফলে বিষয়টি চিকিৎসকদের কাছে ছিল দ্বিগুণ চ্যালেঞ্জের। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে স্বল্প পরিকাঠামোয় এই অপারেশন সফল হল। এখন সুস্থই আছেন শুভ্রাদেবী। আজ, বৃহস্পতিবার তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার কথা।চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ অস্ত্রোপচারে কেটে অপারেশন করতে হয়। এতে রক্তক্ষরণ তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। ক্ষত সেরে উঠতেও সময় লাগে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। কিন্তু লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচারে রক্তক্ষরণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। যা এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই প্রসঙ্গে হাসপাতালের সুপার ডাঃ শুভাশিস দাস বলেন, বয়সের কারণে এটি আমাদের কাছে বড়ো চ্যালেঞ্জ ছিল। সাতজনের টিম দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় সফলভাবেই এই অপারেশন করেন। এটা আমাদের কাছে গর্বের। সর্বোপরি ডাঃ প্রীতিশ রায় যেভাবে লড়াই করেছেন, তা অনবদ্য। সরকারি হাসপাতালে এই লেজার অপারেশন আশপাশে এখনও কোথাও হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, লেজার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পাইলস, ফিসচুলা, সিস্ট সহ একাধিক রোগের অস্ত্রোপচার করা সম্ভব। ন্যূনতম খরচে আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য। এনিয়ে শুভ্রাদেবীর স্বামী কৃষ্ণকান্ত ঘোষ জানিয়েছেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই। বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী বলেন, আগামী দিনে হাসপাতালের উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।