ছেলেবেলা কেটেছে দারিদ্রে, এখন অসহায়দের সাহায্যই লক্ষ্য হারুণের
বর্তমান | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, বসিরহাট: নিম্নবিত্ত পরিবার। এক সময়ে দারিদ্র্য কুরে কুরে খেয়েছে তাঁকে। কোনোদিন একবেলা খাবার জুটেছে তো, কোনোদিন দু’বেলা। বাবা ছিলেন দিনমজুর। এমনও দিন গিয়েছে, যেদিন ছেলে-মেয়েদের খাইয়ে বাবা-মা শুধু জল খেয়ে রাত কাটিয়েছেন।বাদুড়িয়া থানা এলাকার ছোট্ট গ্রাম চণ্ডীপুর। এই গ্রামেই থাকেন হারুণ মণ্ডল। বছর দশেকের হারুণ পরিবারের মুখে একটু হাসি ফোটাতে গত শতাব্দীর ন’য়ের দশকে রামচন্দ্রপুর, কেওটাশা, চাতরা, চারঘাটের হাট থেকে সবজি কিনে মছলন্দপুর আসত। সেখান থেকে ভোরের ট্রেনে সোজা শিয়ালদহ। কোলে মার্কেটে সেইসব সবজি বিক্রি করে ঘরে ফিরত সে। এভাবে কেটেছে টানা ১১ বছর। প্রতিদিন যাওয়া-আসার পথে তাঁর চোখে পড়েছে ভবঘুরে, অভাবী, পথশিশু, মানসিক ভারসাম্যহীন অসংখ্য মানুষ। রোজগার স্বল্প হলেও হারুণ সামর্থ্য মতো সাহায্য করতেন তাঁদের। ২০০৩ সালে বদল আসে ব্যবসায়। সবজি ছেড়ে মধুর ব্যবসা শুরু করেন হারুণ। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। বহরে বেড়েছে ব্যবসা। তবে অতীতকে ভোলেননি তিনি। বদল আসেনি মানসিকতায়। বরং অসহায় মানুষদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আরও।ব্যবসার কাজে মছলন্দপুর থেকে নিয়মিত শিয়ালদহ বা বারাসত স্টেশনে যাতায়াত করতে হয় হারুণ মণ্ডলকে। তবে এখন আর খালি হাতে আসেন না তিনি। সঙ্গে থাকে রান্না করা খাবার আর বস্ত্র। শীতকাল বলে এখন শীতবস্ত্রই বেশি। অসহায় পথশিশুদের কাছে তিনি প্রিয় দাদু। শিয়ালদহের সাগর রায় কিংবা মেঘা কুমারীদের কাছে তিনি যেন সারা বছরের ‘সান্তাক্লজ’। নিয়মিত তাদের খাবার দেওয়ার পাশাপাশি খেলনা বা বই উপহার দেন তিনি। পড়াশোনায় উৎসাহ জোগান। মানসিকভাবে যাঁরা ভারসাম্যহীন, তাঁদের শীতের পোশাকের পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থাও করেন তিনি। কখনও কখনও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তাঁদের জন্য ওষুধও নিয়ে যান।হারুণ মণ্ডলকে প্রশ্ন করতেই হাসিমুখে বললেন, আমি প্রচারের বাইরে থাকতে চাই। এই শিশুদের মধ্যে আমি আমার ছেলেবেলা খুঁজে পাই। অভাবের সংসার ছিল। বাবাই ছিল একমাত্র রোজগেরে। আমি একটু বড়ো হলে আমাকেও শুধু আলু সিদ্ধ খেয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। চাল কেনার টাকা ছিল না। পরম করুণাময়ী আমাকে এদের পাশে থাকার সামর্থ্য দিয়েছেন, সেটাই পালন করছি। পেশায় শিক্ষক বেণী সর্দার বলেন, হারুণ সাহেব সাধারণের মধ্যে অসাধারণ। তিনি অসহায় মানুষদের পাশে থাকেন এবং একজন সফল ব্যবসায়ীও। ধর্ম, বর্ণ না দেখেই তিনি অসহায় মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এই সমাজে হারুণ মণ্ডলের মতো মানুষদের বিশেষ প্রয়োজন। নিজস্ব চিত্র