• টেরাকোটার মন্দির দেখতে আর বিষ্ণুপুর যেতে হবে না, কলকাতার কাছেই আছে এই স্থান
    এই সময় | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • কলকাতার খুব কাছেই, হাওড়া জেলার আমতা ব্লকের অন্তর্গত নিরিবিলি গ্রাম— গড় ভবানীপুর। পর্যটন মানচিত্রে এখনও বিশেষ পরিচিত না হলেও, ইতিহাসপ্রেমীরা জানেন এই জায়গার কদর। টেরাকোটার মন্দির আর বাংলার ইতিহাসের দলিল হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই গ্রাম। শহরের ভিড় থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্ব। 

    গড় ভবানীপুরের প্রধান আকর্ষণ এখানকার প্রাচীন মন্দির ও ধর্মীয় ঐতিহ্য। গ্রামের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত গর্ভভবনেশ্বর শিবমন্দির বহু শতাব্দী প্রাচীন বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস। মন্দিরের স্থাপত্যে প্রাচীন বাংলার ছাপ স্পষ্ট—সরল নকশা, পোড়ামাটির অলংকরণ এবং শান্ত পরিবেশ। শিবের পাশাপাশি এখানে শক্তি ও বৈষ্ণব উপাসনার নিদর্শনও দেখা যায়, যা বাংলার ধর্মীয় সহাবস্থানের এক সুন্দর উদাহরণ।

    এই গ্রামের নামের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে নানা লোককথা। কথিত আছে, ‘গর্ভ’ অর্থাৎ সৃষ্টির উৎস থেকেই এই অঞ্চলের নামকরণ। তাই বহু মানুষ বিশ্বাস করেন, এখানে এসে প্রার্থনা করলে মানসিক শান্তি ও ইতিবাচক শক্তি পাওয়া যায়। বিশেষ করে শ্রাবণ মাস ও শিবরাত্রির সময়ে মন্দির প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত, যদিও তখনও ভিড় কখনও বিরক্তিকর নয়।

    গড় ভবানীপুরের আর এক বড় আকর্ষণ তার গ্রামবাংলার স্বাভাবিক জীবনযাপন। কাঁচা-পাকা রাস্তা, পুকুরঘেরা বাড়ি, ধানখেত, তাল-খেজুর গাছ—সব মিলিয়ে একেবারে পোস্টকার্ডের মতো দৃশ্য। সকালে পাখির ডাক, বিকেলে মাঠে গরু চরানো আর সন্ধ্যায় মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি—এই সবই শহুরে জীবনে ক্লান্ত মানুষের কাছে অমূল্য অভিজ্ঞতা।

    ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন যাঁরা, তাঁদের জন্য গড় ভবানীপুর আদর্শ। পুরনো মন্দিরের দেয়াল, গ্রামীণ মানুষের মুখ, আর আলো-ছায়ার খেলা ক্যামেরায় ধরা পড়বে অনায়াসে। চাইলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যাবে গ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির নানা অজানা দিক।

  • Link to this news (এই সময়)