• ভোটের আগে নওশাদের জোটবার্তা হাত-কাস্তেকে
    এই সময় | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: শহিদ মিনারে বড় জমায়েত করে ২০২৬–এর বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে সিপিএম ও কংগ্রেসের সঙ্গে দ্রুত নির্বাচনী সমঝোতা করার ডাক দিয়েছেন আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি। আইএসএফ নেতৃত্ব ব্রিগেডে সমাবেশ করতে চাইলেও সেনার অনুমতি না মেলায় শহিদ মিনারে বুধবার সভা করেন নওশাদ। বিধানসভা ভোটের জন্য এখন থেকেই নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে কথা শুরু না হলে বুথ স্তরে জোটের প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন ভাঙড়ের বিধায়ক।

    সমাবেশের শেষে সংবাদমাধ্যমকে নওশাদ বলেন, ‘জোট করার জন্য আমরা প্রস্তুত। বামফ্রন্ট, কংগ্রেস–সহ বিভিন্ন ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির মধ্যে আলোচনা চলছে। এই মাসের মধ্যে জোট প্রক্রিয়া যাতে সমাপ্ত হয়, আমরা তার জন্য চেষ্টা করব। এখন থেকে আলোচনা না হলে রাজ্য স্তরে জোট হবে, কিন্তু বুথ স্তরে তার প্রভাব পড়বে না।’ ২০২১–এর বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএমের উদ্যোগে কংগ্রেস, আইএসএফকে নিয়ে সংযুক্ত মোর্চা গঠিত হয়েছিল। নওশাদ সেই জোটের একমাত্র প্রার্থী, যিনি ভোটে জিতেছিলেন। ২০২৪–এর লোকসভা নির্বাচনে বাম–কংগ্রেসের মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা হলেও আইএসএফ আলাদা লড়াই করেছিল। নওশাদ সেই সময়ে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতাদের তীব্র আক্রমণ করেছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে নওশাদের এই জোট প্রস্তাব নিয়ে ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ করতে চাইছেন সিপিএম নেতৃত্ব।

    নওশাদের এ দিনের জোট প্রস্তাব নিয়ে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘তৃণমূল এবং বিজেপিকে পরাস্ত করতে ধর্মনিরপক্ষে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলিকে একজোট হতে হবে। তৃণমূল এবং বিজেপির বাইরে যে ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক শক্তি রয়েছে, তাদের মধ্যে আলোচনা হওয়ারই কথা। নওশাদ নিশ্চয়ই সদর্থক মনোভাব নিয়েই তাঁর কথা বলেছেন।’ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার–সহ বিধান ভবনের একাংশ রাজ্যের ২৯৪ আসনে একা লড়াই করার পক্ষপাতী। কয়েক দিন আগে প্রদেশ কংগ্রেসের বৈঠকেও এই অবস্থানের পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে।

    যদিও অধীর চৌধুরী আইএসএফ নেতৃত্বের প্রস্তাবকে উড়িয়ে দেননি। অধীর এ দিন বলেন, ‘এটা যুক্তিযুক্ত প্রস্তাব। ২০১৬–তে বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হয়েছিল। সেই সময়ে আইএসএফ নেতৃত্বের যে মনোভাব ছিল, তা আমরা মানতে পারিনি। এখন যিনি আইএসএফের নেতৃত্বে রয়েছেন, তাঁর কথা আমার কখনও খারাপ মনে হয়নি।’ তৃণমূল নেতৃত্ব নওশাদের এ দিনের বক্তব্যকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। জোড়াফুলের বক্তব্য, ‘২০২১–তে এই ভাবে জোট হয়েছিল। কিন্তু সিপিএম এবং কংগ্রেস শূন্য পেয়েছিল।’

  • Link to this news (এই সময়)