• জঙ্গলমহলে ট্রেনের পরিষেবা নিয়েও বিজেপিকে নিশানা অভিষেকের
    এই সময় | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মালদা ও হুগলির সিঙ্গুরে সরকারি অনুষ্ঠান থেকে পশ্চিমবঙ্গে নতুন ‘বন্দে ভারত’, ‘অমৃত ভারত’ ট্রেন পরিষেবা চালু করেছেন। কিন্তু ২০১৯ থেকে বিজেপির দখলে থাকা বাংলার জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ অংশে ট্রেন পরিষেবার বেহাল চিত্র তুলে ধরলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বুধবার পুরুলিয়াতে তৃণমূলের জনসভা থেকে তিনটি জনপ্রিয় ট্রেনের বর্তমান পরিষেবার ছবি তু‍লে ধরে কেন্দ্রের শাসকদলকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। পুরুলিয়া এক্সপ্রেস, রূপসী বাংলা, হাওড়া–চক্রধরপুর এক্সপ্রেসের উদাহরণ দিয়েছেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা।

    অভিষেক বলেন, ‘আমাদের কত লোক ফোন করে বলেছে, হাওড়া–চক্রধরপুর রাত ১২টায় হাওড়া ছেড়ে সকাল ৬টায় পুরুলিয়াতে পৌঁছনোর কথা। সেই ট্রেন ঢোকে সকাল ১০–১১টায়। পুরুলিয়া এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে ছাড়ে ৩টা ৪০–এ, পুরুলিয়াতে পৌঁছনোর কথা ১০–৩০ টায়, সেই ট্রেন ঢোকে রাত ১টা–২টোয়। রূপসী বাংলা পুরুলিয়া থেকে দুপুর ৩–৩০য়ে ছাড়ে, হাওড়ায় ঢোকার কথা রাত ১০টায়, কোনও দিন হাওড়ায় ঢোকে না, সাঁতরাগাছিতে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়।’ পুরু‍লিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোর্তিময় সিং মাহাতোকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, ‘একটি ট্রেন পুরুলিয়া থেকে ঠিক সময়ে হাওড়া নিয়ে যেতে পারো না, তোমরা মানুষকে রাস্তা, বাড়ি, জল দেবে?’

    ২০১৯–এ পুরুলিয়া প্রথম বিজেপির দখলে এসেছিল। সেই সময়ে বিজেপির প্রচারের নতুন ট্রেনলাইন স্থাপন নিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘সাংসদ বিজেপির, ছ’টি জায়গায় বিধায়ক বিজেপির, দিল্লি থেকে কত টাকা নিয়ে এসেছে? একটি বাড়তি ট্রেন লাইন করেছে? বান্দোয়ান–মানবাজার ট্রেন লাইন হবে, পুরুলিয়া–ঝাড়গ্রাম লাইন হবে— কত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল! একটা ট্রেন লাইন করেছে?’ অভিষেকের এই আক্রমণের মুখে পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁর ফোন বেজে গিয়েছে। জঙ্গলমহলের ট্রেন পরিষেবা উন্নত করার জন্য ২০২৬–এর ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরেই তৃণমূল কোমর বেঁধে নামবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিষেক।

    তাঁর কথায়, ‘নির্বাচনের ফল ঘোষণার তিন মাসের মধ্যে এই বিষয়টি শুধু সংসদে তোলা নয়, রেলমন্ত্রীর কাছে পুরুলিয়া থেকে ২০ জন প্রতিনিধির দল নিয়ে গিয়ে সমস্যার সমাধান করব। ট্রেনের গন্তব্য যদি হাওড়া হয়, তা হলে ওই ট্রেনকে সাঁতরাগাছি নয়, হাওড়াতে ঢুকতে হবে। মানুষের সময়ের দাম নেই?’ পুরুলিয়ার কিছু এলাকার উন্নয়ন নিয়ে রাজ্য সরকারে কাছেও সেখানকার মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণ করার আশ্বাসও দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘আমি জানি, এখানে অনেক ব্লকে আপনাদের কিছু দাবি রয়েছে। কোথাও আইটিআই, কোথাও কোল্ড স্টোরেজ, কোথাও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, কোথাও পলিটেকনিক নির্মাণের দাবি রয়েছে। পুরুলিয়াতে তৃণমূলের পক্ষে ৯–০ ফল হবে। ছ’মাসের মধ্যে এই দাবি পূরণ হবে, কথা দিচ্ছি।’

  • Link to this news (এই সময়)