• চেন্নাইয়ে রেল লাইনের পাশে উদ্ধার মালদহের শ্রমিকের দেহ, অন্ধে পিটিয়ে খুন মগরাহাটের যুবককে
    ২৪ ঘন্টা | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • রণজয় সিংহ ও নকিব উদ্দিন গাজী: একের পর এক বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ভিনরাজ্যে। কখনও চোর অপবাদে, কখনও বাংলা বলার অপরাধে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে মারধর। এবার মালাদহের এক শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু হল চেন্নাইয়ে। অন্যদিকে, অন্ধ্র প্রদেশে কাজে গিয়ে খুন হলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক জরি শ্রমিক।

    আট দিন নিখোঁজ থাকার পর রেল লাইনের ধারে জঙ্গল থেকে ক্ষত-বিক্ষত দেহ উদ্ধার হল মালদহের এক শ্রমিকের। খুন করা হয়েছে অনুমান পরিবারের। একমাত্র রোজগেরে সদস্যের মৃত্যুতে অথৈ জলে পরিবার। দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে মাথায় হাত অসহায় স্ত্রীর। পাশে দাঁড়ায়নি প্রশাসন থেকে জন-প্রতিনিধি।

    ফের শ্রমিক মৃত্যুতে রাজ্যের কর্মসংস্থান নিয়ে তৃণমূলকে তোপ বিজেপির। পাল্টা বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলছে তৃণমূল।রাজনৈতিক এই তরজায় অনিশ্চিত মৃত শ্রমিকের পরিবারের ভবিষ্যৎ। মৃত শ্রমিকের নাম আলমগীর আলম(২৯)। বাড়ি মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের মশালদহ বাজারে।

    এলাকায় কোন কাজ নেই।তাই পেটের টানে চেন্নাইতে কাজের জন্য গিয়েছিলেন আলমগীর। ৯ দিন আগে আরেকটি কাজের জন্য হায়দ্রাবাদ যাওয়ার কথা ছিল তার। ট্রেনে ওঠার আগে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথাও বলেন। কিন্তু তারপর থেকে তার আর কোন খোঁজ নেই। পাওয়া যাচ্ছিল না ফোনেও। আশে পাশে থাকা তার সহকর্মীরা স্থানীয় থানাতেও জানান।

    আটদিন নিখোঁজ থাকার পর চেন্নাইয়ের যে স্টেশন থেকে হায়দ্রাবাদ যাওয়ার উদ্দেশ্যে তার ট্রেনে ওঠার কথা ছিল তার পরবর্তী স্টেশনের কাছাকাছি রেল লাইনের ধারে জঙ্গল থেকে আলমগীরের ক্ষত-বিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। খবর আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে স্ত্রী থেকে শুরু করে পরিবারের লোকেরা। আলমগীরের উপর নির্ভর ছিল সমস্ত সংসার। ছোট ছোট দুই সন্তান রয়েছে। গভীর শোকের মাঝেই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আলমগীরের স্ত্রী। এখনো পর্যন্ত প্রশাসন বা জন-প্রতিনিধিরা কেউ দেখা করেনি।

    অন্যদিকে, অন্ধ্রের কাজে গিয়ে মৃত্যু হল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার এক শ্রমিকের। নাম মঞ্জর আলম। পেশায় তিনি জরি শ্রমিক। পরিবারের অভিযোগ, চুরির অপবাদ দিয়েই মঞ্জুরকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। মঞ্জুরের বাড়ি মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভার রঙ্গিলাবাদ গ্রামে গোয়াল খালি এলাকার। কাজ করতেন অন্ধ্রপ্রদেশে কোমারলু এলাকায়। ওই এলাকা থেকে মঙ্গলবার বাড়িতে ফোন করে ২৫০০ টাকা চান তিনি। বলেন, টাকা না দিলে মেরে ফেলবে। বাড়ি থেকে ছয় হাজার টাকা ফোন পে করাও হয়েছিল। তার পর থেকে আর কোনও খবর ছিল না। বুধবার দিন মৃত্যুর খবর আসে । 

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)